সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

|

শ্রাবণ ২৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রীকে লাথি, সংশোধনে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে শিশু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:৩৭, ১০ আগস্ট ২০২৬

সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রীকে লাথি, সংশোধনে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে শিশু

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে এক ছাত্রীকে পেছন থেকে লাথি দেওয়ার ঘটনায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে সংশোধনের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে সোনারগাঁ থানায় শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে নিয়ে আসার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা নূর ফারজানার উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে শিশু আইন, ২০১৩-এর ৪৮ ধারা অনুযায়ী বিকল্প পন্থায় (ডাইভারশন) তাকে ছয় মাসের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট সোনারগাঁ থানার কাঁচপুর রায়েরটেক নদীর পাড়ের ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে। কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার সময় ১১ বছর বয়সী ওই শিশু তাকে পেছন থেকে লাথি দেয়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

পরবর্তীতে ঘটনার ভিডিও বা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের নজরে আসে। পরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় ঘটনাটি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে শিশুটিকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সোনারগাঁ থানায় আনা হয়। প্রবেশন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ ও আলোচনার পর শিশুটির জন্মনিবন্ধন যাচাই করা হয়। এতে তার বয়স ১১ বছর বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা-মা বা অভিভাবকের কোনো অভিযোগ না থাকায় শিশুটির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে আগামী ছয় মাস শিশুটির আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময়ে তাকে অনুরূপ কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত থাকা, বাবা-মায়ের নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিয়মিত প্রবেশন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতি মাসে শিশুটির আচরণ ও অগ্রগতি সম্পর্কে প্রবেশন কর্মকর্তা সোনারগাঁ থানায় প্রতিবেদন দেবেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সোনারগাঁ থানার সাধারণ ডায়েরিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরে শনিবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে বিধি অনুযায়ী শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়।