ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটি আসনে সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাদেরই ছেলে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান নিজেদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সমন্বয় ও সহযোগিতার জন্য সন্তানদের এ দায়িত্ব দিয়েছেন।
দুই এমপির নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় রাজনৈতিক সচিব হিসেবে তারা সংসদ সদস্যকে সহযোগিতা করবেন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে একই সঙ্গে বাবা-ছেলের এমন সমন্বিত ভূমিকা ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব তৈরির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতারা।
স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত সহকারী বা পিএ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। তবে ‘রাজনৈতিক সচিব’ হিসেবে সন্তানকে দায়িত্ব দেওয়ার নজির নারায়ণগঞ্জে খুব একটা দেখা যায়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জেলার দুই সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে।
রাজনৈতিক সচিব সাধারণত সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করে থাকেন। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়েও সংসদ সদস্যের হয়ে যোগাযোগ রক্ষায় ভূমিকা রাখেন তিনি।
ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির প্রবীণ নেতা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। নির্বাচনের পর মার্চে তিনি নিজের ছেলে আবুল কাউসার আশাকে রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন।
আবুল কাউসার আশা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। এর আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে তার নিজস্ব সাংগঠনিক পরিচিতিও রয়েছে।
চারবারের সংসদ সদস্য আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয়। শারীরিক অবস্থার কারণে সবসময় সরকারি দপ্তর বা নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কার্যক্রমে অনেক সময় সরাসরি উপস্থিত থাকা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। এ কারণে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ, নথিপত্র সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমন্বয় সহজ করতে ছেলেকে রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আশার দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা এবং এবার বাবার রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পাওয়াকে শুধু দাপ্তরিক সমন্বয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখছেন না অনেকে। তাদের মতে, বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে এই আসনে এমপি পদে আশা জোর দাবীদার হয়ে উঠতে পারেন।
অন্যদিকে গত ৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান তার ছেলে খাইরুল ইসলাম সজিবকে রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন। সজিব এর আগে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বাবার রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কার্যক্রমে সংসদ সদস্যকে সহযোগিতা করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার।
আজহারুল ইসলাম মান্নান নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ছেলের ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হয়, সেটিও এখন দেখার বিষয়। বিশেষ করে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে সজিবের আগের সম্পৃক্ততা থাকায় নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একই সময়ে দুই সংসদ সদস্যের সন্তান রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পাওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলাদা করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ দুই ক্ষেত্রেই নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা শুধু সংসদ সদস্যের সন্তান নন। তাদের নিজেদেরও রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে কৌতূহল উঠেছে, এটি কি শুধুই সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতার ব্যবস্থা, নাকি এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী এলাকার রাজনীতিতে পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে?

