মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

|

শ্রাবণ ৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

মেট্রোরেল আনার চেষ্টা করছি: দিপু ভূঁইয়া

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৮:৩০, ২০ জুলাই ২০২৬

মেট্রোরেল আনার চেষ্টা করছি: দিপু ভূঁইয়া

চেম্বার ভবনে সংবাদ সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল আসবে সবাই বলছিল। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেলের রুটেই ছিল না। আমরা চেষ্টা করছি মেট্রোরেলটা যেন নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত আসে। কারণ নারায়ণগঞ্জ থেকে বিপুল পরিমান লোক প্রতিদিন ঢাকায় যায়। মেট্রোরেলের সুবিধাটা আসলে নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসবে। আমাদের প্রত্যাশা মেট্রোরেলটা যেন নারায়ণগঞ্জে আসে।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

চেম্বার সভাপতি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছি নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোসিটি করার জন্য। নারায়ণগঞ্জ মেট্রোসিটি হলে এখানে সাতশোর মত পুলিশই আসবে। এটা নারায়ণগঞ্জের নিরাপত্তার সমস্যাটাকে অনেকটা সমাধান করবে। আমরা নারায়ণগঞ্জকে সেফ সিটি করার চেষ্টা করছি। এখানে এআই ক্যামেরা থাকবে। কোন অসৎ লোক বা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নারায়ণগঞ্জে আসলেই এই তথ্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে চলে যাবে। নারায়ণগঞ্জবাসী যেন ঘরের দরজা খুলে ঘুমাতে পারে এই ব্যাবস্থা করবো।

আমরা নারায়ণগঞ্জকে এ ক্যাটাগরিতে নিয়ে আসার দাবী জানিয়েছি। নারায়ণগঞ্জ জিডিপিতে এত অবদান রাখার পরেও এটা এভাবে রেখেছে। এর থেকে ওভারকাম করতে চাই।

জিয়াল হল ভাঙা অবস্থায় আছে। এখানে নতুন ভবনের জন্য একটি একশো কোটি টাকার প্রজেক্ট প্রায় চূড়ান্ত। আমরা দাবী জানিয়েছি একটি মেডিকেল কলেজের জন্য। এটা হলে নারায়ণগঞ্জবাসীকে আর ঢাকায় যাওয়া লাগবে না। আমরা চেম্বারের উদ্যোগে কর্মব্যাবস্থার জন্য স্কিল ট্রেনিং সেন্টারের মত ইউনিভার্সিটি করার চিন্তা করছি। এর মাধ্যমে তারা যেন চাকুরি পায় এবং দেশের বাইরেও যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশে দক্ষ লোক পাওয়া মুশকিল। দক্ষ লোক বিদেশে গেলে রেমিটেন্স বেশি আসবে।

নারায়ণগঞ্জের কোর্ট ভবন রয়েছে। এই ভবনটি কত বছর ধরে পড়ে আছে। এটি কোটি কোটি টাকা খরচ করে বানানো। অথচ চালু না করায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি এত অফিস ভাড়ায় চলছে। এখানে যেন সেই অফিসগুলো স্থানান্তর করার ব্যাবস্থা নেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার বহুদিন পর বাংলাদেশে একটি নতুন বাজেট দিয়েছে। যে বাজেট বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের আশা ছিল। মানুষ আশায় ছিল কী ধরনের বাজেট হবে।

গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে যে বাজেটগুলো দেয়া হয়েছিল সেগুলো জনগণের কোন কাজে আসেনি ব্যাবসায়ীদেরও কাজে আসেনি। আমি ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে।

এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের ভাল একটি বাজেট হয়েছে যেখানে ইন্ডাস্ট্রি মালিকগণ ও জনগণ সকলে আনন্দের সাথে এ বাজেটকে গ্রহণ করেছে। খাদ্যদ্রব্য চাল ডালের ওপরে পাঁচ শতাংশ ট্যাক্স ছিল সেটাকে ০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। দিনমজুরসহ সকলের জন্য খাদ্যদ্রব্যের দাম কমলে মানুষ তিনবেলা খেতে পারে।

গত সতেরো বছরে নতুন কোন ইন্ডাস্ট্রির দিকে মানুষ যায়নি। নানান সমস্যা হচ্ছিল। এখন সেই সমস্যা থেকে মানুষ বের হয়ে আসছে।

যে ইন্ডাস্ট্রিগুলো বন্ধ করা হয়েছে। আমি বলবো এগুলো উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। অন্য দেশ যেন উপকৃত হয়, এজন্য ইন্ডাস্ট্রিগুলো বন্ধ করা হয়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিগুলো চালু করার জন্য। এটা নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ঋণের সুবিধার জন্য ইন্ডাস্ট্রিগুলো আগের জায়গায় চলে আসবে। ক্ষুদ্র ঋণ যেগুলো আছে কৃষি ঋণের মত যাদের বাসায় গিয়ে ব্যাংকের লোকেরা হ্যারেজমেন্ট করছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই ঋণ মওকুফ করে দিয়েছে। এজন্য আমি নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।