ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার শুরুর দাবিতে আলোকপ্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচি থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে থাকার সমালোচনা করে অবিলম্বে দৃশ্যমান বিচার কার্যক্রম শুরুর দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা ছিলেন ত্বকীর বাবা, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। তিনি বলেন, ‘ত্বকী হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত শামীম ওসমান এবং চিহ্নিত ঘাতক আজমেরী ওসমান ও অয়ন ওসমানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
রফিউর রাব্বি বলেন, ‘দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছর ধরে আমরা ত্বকী হত্যার বিচার দাবি করে আসছি। শুধু ত্বকী নয়, নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের হাতে নিহত অন্তত ২০ জন এবং দেশজুড়ে সাগর-রুনি ও তনু হত্যার বিচার নিয়েও আমরা সোচ্চার। কিন্তু এখনো কোনো দৃশ্যমান বিচার হয়নি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে র্যাব তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের কথা জানিয়েছিল।
তবে রাজনৈতিক কারণে সেই অভিযোগপত্র আটকে রাখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও বিচারব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি।
বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন রফিউর রাব্বি। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১ মে কাঁচপুরে মে দিবসের সমাবেশে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া ত্বকী হত্যার ঘটনায় হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। একইভাবে নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ত্বকী হত্যার বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রফিউর রাব্বি আরো বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু এত সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওসমান পরিবার ও ত্বকীর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে বলে মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল। এর ফলে নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ভয়ের পরিবেশ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তা অপরাধীদের জন্য পরোক্ষ উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে। ত্বকীসহ সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অন্যান্য বক্তারাও ত্বকী হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, ন্যাপ জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

