ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মিশুক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক ওয়ালি উল্লাহকে (২০) হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ছিনতাই হওয়া মিশুক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. শাহিন (৩১) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—সোনারগাঁ উপজেলার বড় আলমদী এলাকার মোঃ আব্দুল লতিফের ছেলে মো. আওলাদ হোসেন (২৬) এবং চরভুলুয়া (আলমদী) এলাকার মৃত আবদুস ছোবহানের ছেলে শাহিন (৩১)।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) বলেন, গত ৫ জুলাই দুপুর ২টার দিকে বাবার মিশুক নিয়ে চালানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন ওয়ালি উল্লাহ। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৬ জুলাই সকালে তার বাবা সোনারগাঁ থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন।
একই দিন বিকেলে আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী গ্রামের একটি নির্জন স্থানে রাস্তার পাশে এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সেখানে যান ওয়ালি উল্লাহর বাবা। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে তিনি মরদেহটি নিজের ছেলে ওয়ালি উল্লাহর বলে শনাক্ত করেন।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ালি উল্লাহর গলার বাম পাশে, কানের নিচে গভীর ক্ষত ছিল। তার বাম চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল। পেটের ওপরের অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন এবং পিঠের কোমরের ওপরের অংশে গভীর ক্ষত ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. হারুন রশিদ (৫৯) বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ৭ জুলাই দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
পিবিআই জানায়, মামলাটি সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ৩ আগস্ট স্ব-উদ্যোগে তদন্তের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। এসআই (নিঃ) পুলক সরকারকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল ও আসা-যাওয়ার বিভিন্ন রুট বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট রাত ১০টার দিকে সোনারগাঁয়ের বড় আলমদী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আওলাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে সোনারগাঁয়ের আলমদী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে শাহিনের বসতঘর থেকে ওয়ালি উল্লাহর ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ও বাংলালিংকের একটি সিম উদ্ধার করা হয়। পরে আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৭ আগস্ট রাত ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া মিশুকটিও উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেপ্তার দুজনসহ আরও চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিশুকটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ওয়ালি উল্লাহকে ভাড়া করেন। তারা সোনারগাঁয়ের বারদী অটোস্ট্যান্ড থেকে মিশুকটি আড়াইহাজারের সুলতানশাদী বাজারে যাওয়ার জন্য ভাড়া নেয়।
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, সুলতানশাদী বাজারে যাওয়ার পর ফেরার পথে সন্ধ্যার দিকে তারা ওয়ালি উল্লাহকে মিশুকসহ উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী গ্রামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মিশুক ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা। পরে মিশুকটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর এলাকায় নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় শাহিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

