প্রতীকী ছবি
বন্দরে একটি বিদেশী রিভালবার ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ ২২ মামলার আসামী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন (২৯) ও তার সহযোগী রুবেল (৩৫)কে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলো বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকার কানা মতিন মিয়ার ছেলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সুজন (২৯) ও একই এলাকার মৃত আলী মিয়ার ছেলে অপর সন্ত্রাসী রুবেল (৩৫)।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারী) দুপুরে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। এর আগে গত বুধবার (২৮ জানুয়ারী) রাত সাড়ে ৩টায় বন্দর উপজেলার মদনপুর চাঁনপুরস্থ ধৃত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজনের বসত বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত অস্ত্র উদ্ধারসহ এদেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায়র্যাব-১১ সিপিএসসি নায়েব সুবেদার গিয়াস উদ্দিন সিকদার বাদী হয়ে ধৃত ২ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেছে। যার মামলা নং- ৩২(১)২৬ ধারা- ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯A/ ১৯ (P)।
জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন ও তার বাহিনী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মাধ্যমে বন্দর উপজেলাকে আতংকের জনপথ তৈরী করে রেখেছে। সুজনের বিরুদ্ধে, হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, জমিদখল ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধে ২২টি রয়েছে। মদনপুর ও চাঁনপুরসহ এর আশেপাশের এলাকায় যেকোনো নতুন স্থাপনা নির্মাণের সময় তার বাহিনীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং মারধরের ঘটনা ছিল নিয়মিত। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে তার বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত 'মাসোহারা' আদায় করার ও অভিযোগ রয়েছে।
আধিপত্য বজায় রাখতে সুজন প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে আসছিল। সুজন বাহিনীর ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় মাদকের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠে। তার সরাসরি তত্ত্বাবধান এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল কেনাবেচা হয়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ধামগড় ফাঁড়ি উপ পরিদর্শক আবু ছাইম জানান, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আগামী রোববার রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর আপনাদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে।

