ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা ঘিরে ছিল ব্যতিক্রমী দৃশ্য। প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার আশায় সন্ধ্যা থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। কনকনে শীত, দীর্ঘ অপেক্ষা—কোনো কিছুই তাদের উদ্দীপনা কমাতে পারেনি। রাতভর তারা অবস্থান করেন মাঠে, যেন এই অপেক্ষাই হয়ে ওঠে তারেক রহমানের প্রতি ভালোবাসা ও আস্থার প্রকাশ।
সমাবেশটি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নেতাকর্মীদের পথে পথে ভিড় ও চাপে তারেক রহমানের নারায়ণগঞ্জে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। তবুও নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা যায়নি। শীত উপেক্ষা করে তারা স্লোগান, গান আর আলাপচারিতার মাধ্যমে পুরো রাত মাঠে কাটান। অনেকেই বলেন, নেতা আসবেন এবং তাকে দেখবো এই বিশ্বাসই তাদের শক্তি জুগিয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হয়। ভোরে তারেক রহমান পৌঁছাতেই মুহূর্তে বদলে যায় পুরো পরিবেশ। অপেক্ষার অবসান ঘটে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ, করতালি ও হাত নেড়ে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ক্লান্তি যেন এক মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়। অনেকের চোখে-মুখে ছিল আবেগ, কারও কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে স্লোগান দিতে গিয়ে। তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে উপস্থিত জনতা দাঁড়িয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
এরপর জনসভায় ভাষণ দেন তারেক রহমান। বক্তব্যে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি জনসভায় যোগ দিতে দেরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
এসময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি তার বক্তব্য তুলে ধরেন। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট চান তারেক রহমান। এসময় তার কথায় সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেন উপস্থিত জনতা।
জনসভা শেষে অনেক নেতাকর্মীরা জানান, সারারাত অপেক্ষা করলেও কোনো ক্লান্তি অনুভব হয়নি। তাদের ভাষায়, প্রিয় নেতার জন্য এই অপেক্ষা আমাদের কাছে গর্বের।
সব মিলিয়ে, এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক আয়োজনই নয়, বরং তারেক রহমানের প্রতি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের গভীর ভালোবাসা ও অটুট আস্থার এক জীবন্ত প্রমাণ হয়ে ওঠে।

