ফাইল ছবি
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে পাঁচকানীরকান্দী(খাসেরগাঁও), কুরবানপুর ও পাঁচানীসহ চার গ্রামের লোকজনদের মধ্যে বুধবার বিকেলে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের টেঁটাবৃদ্ধসহ কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশংকাজনক। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় কয়েকটি বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও সোনারগাঁ থানা পুলিশের পৃথক তিনটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য খাসেরগাঁও গ্রামের মনির হোসেন ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের রাসেল মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার পাঁচানি গ্রামের মন্ডুইল্লা গ্রুপের হামিদুল ইসলাম হামিদ, মৃদুল, রানা ও আব্দুল জলিলের সাথে দীর্ঘদিন যাবত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মাদক ব্যবসার লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রথম এ দূ'গ্রুপের লোকজনদের মধ্যে প্রথম দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে দূ'গ্রুপের লোকজন দা, ছোরা, টেঁটা, বল্লব, লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় আড়াই ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ উভয় গ্রুপের ইয়াকুব, সফিকুল ইসলাম, ফজলুল হক, বজলু মিয়া, আয়নাল হক, হামিদ, জুলেখাসহ কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়।
সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ পাঁচানি গ্রামের বজলু মিয়া বলেন, তার পাশের গ্রাম ছোট কোরবানপুর ও খাশেরগাঁওয়ের মনির মেম্বার ও রাসেল মিয়া সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তাদের বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এবাহিনীর লোকজন দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ডাকাতি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছে। আমরা এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বুধবার দুপুরে হঠাৎ করে দেশিয়ে অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রায় তিন শতাধিক লোকজন নিয়ে আমাদের গ্রামে প্রবেশ করে তারা পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা এসময় একাধিক বাড়িঘরে ও দোকানপাটে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তারা আমাদের ৮/১০ জনকে কুপিয়ে, পিটিয়ে ও টেঁটাবৃদ্ধ করে আহত করে। এসময় প্রাণ বাঁচাতে গ্রামের অনেকে স্থানীয় মসজিদের ছাদে গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখানে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও মসজিদের দরজা, জানালা ও গ্লাস ভেঙে ফেলে।
ছোট কোরবানপুর গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে পাঁচানি গ্রামের হামিদ মিয়া একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করে রেখে ছিল। আমাদের বাড়িঘরে একাধিকবার হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। এখনো সে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে। বুধবার সকালে আমাদের ছেলেরা পাঁচনী এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে গেলে হামিদ মিয়ার লোকজন তাদেরকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে আমাদের লোকজন গিয়ে তাদের গ্রামে হামলা চালিয়েছে। এসময় দু'পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছে।
এদিকে দূ'গ্রুপের হামলার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও সোনারগাঁ থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উভয় গ্রুপের লোকজন ট্রলারযোগে নদী পারাপার হয়ে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চরবলাকী এলাকা দিয়ে পালিয়ে যায়।
এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মোঃ ইমরান আহাম্মেদ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাঁচানী ও কুরবানপুর এলাকায় সেনবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মহিববুল্লাহ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এব্যাপারে থানায় এখনও পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

