সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

|

জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

মানবপাচারের নাটক সাজিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের হোতা গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১৯:৩১, ১৫ জুন ২০২৬

মানবপাচারের নাটক সাজিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের হোতা গ্রেফতার

ফাইল ছবি

বৈধভাবে বিদেশে গিয়ে গা ঢাকা দিতেন স্বামী। এরপর দেশে তাকে নিখোঁজ দেখিয়ে মানবপাচারের সাজানো মামলা করতেন স্ত্রী। এই মামলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিত চক্রটি। অবশেষে র‍্যাবের অভিযানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হয়েছেন এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা মো. কামরুল আহসান পাভেল (৩৬)।

রোববার (১৪ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৩ ও র‍্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইলের চট্টগ্রাম রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‍্যাব জানায়, পাভেল সংশ্লিষ্ট প্রতারণা মামলার ১ নম্বর আসামি। এছাড়া অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে এর আগেও পল্টন থানায় মানবপাচার, নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে, সৌদি আরবে পাভেলকে নিখোঁজ দেখিয়ে অপহরণ ও মানবপাচারের মামলা করেন তার স্ত্রী পলি আক্তার লিজা। এরপর মামলার ভয় দেখিয়ে ‘ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সিকে টার্গেট করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা ও মামলার ধকল থেকে বাঁচতে এজেন্সিটি তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। এ নিয়ে পাল্টা মামলা করা হলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে পলি আক্তার লিজা ও সোনিয়া নামের দুই নারীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের চিত্র। এই চক্রটি এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
 
প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে করা মামলার নথিতে দেখা যায়, ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল ‘ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল’-এর মাধ্যমে পাভেলকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। পরে তার স্ত্রী পলি আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী মানবপাচারের শিকার এবং তার কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। একই বছরের ১৮ জুন র‍্যাব-৩-এ লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পল্টন থানায় সোপর্দ করা হয়।
 
পরে পলি আক্তার ওই এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চাঁদা দাবি করেন এবং তা দিলে মামলা আপস করতে রাজি হন। উপায়ান্তর না দেখে তাকে প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দেয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর পলি আদালতে লিখিতভাবে জানান, তার স্বামী সৌদি আরবেই অবস্থান করছেন এবং ফোন বন্ধ থাকায় ভুল বোঝাবুঝি থেকে তিনি মামলা করেছিলেন। ফলে আসামিদের জামিনে মুক্তির বিষয়ে তার কোনো আপত্তি নেই।
 
২০২২ সালে পলির করা ওই মামলাটি শেষ হয়ে যাওয়ার তিন বছরের মাথায়, ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট একই এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোনিয়া আক্তার নামের এক নারী পল্টন থানায় মোসাহেদ হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করতে যান। তার অভিযোগ, ওই এজেন্সির মাধ্যমে তার স্বামীকে সৌদি আরবে পাঠানোর পর আটকে রেখে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকায় থানা প্রথমে মামলা নিতে না চাইলেও পরে আদালতের নির্দেশে তা গ্রহণ করা হয়।
 
তবে তিন বছর আগের পলির করা মামলার সঙ্গে সোনিয়ার বর্ণনার হুবহু মিল থাকায় পুলিশ তাদের দুজনের বিষয়ে খোঁজ নেয়। ডিবির তদন্তে এই দুই নারীর ফোনালাপের তথ্য পাওয়া যায়। কল রেকর্ড ও তদন্তে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, দুটি ঘটনাই ছিল এজেন্সির কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য সাজানো চক্রান্ত।
 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে মরিয়া পলি আক্তার তদন্তে সহযোগিতা না করে ইতোমধ্যেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন। এমনকি এই চক্রের অন্যান্য আসামিরাও বর্তমানে বিদেশে গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

আরো পড়ুন