শরফ উদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী
ইনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে হলে ছোটবেলা থেকেই ভিন্নমতকে গ্রহণ করার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, আমরা ভিন্নমতকে গ্রহণ করতে চাই না। সবসময় বলি 'বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার'— এই মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
সোমবার (১৫ জুন) নারায়ণগঞ্জে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার পরিবেশ ও সামাজিক পরিবর্তনের নানা দিক তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন একটি বড় সমস্যা। এই পরিবর্তনের সাথে মিল রেখে আমরা সমাজকে তৈরি করতে পারছি কি না, তা ভাববার বিষয়। নারায়ণগঞ্জে ১০ বছর আগের তুলনায় এখন জনসংখ্যা অনেক বেশি। নানান কারণে মানুষ এখানে আসছে, কিন্তু এই বিশাল জনসংখ্যার জন্য নারায়ণগঞ্জ প্রস্তুত কি না বা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
প্লাস্টিক দূষণ ও নাগরিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের নদী-নালা, খালে প্রচুর ময়লা ফেলা হচ্ছে, যার বড় অংশই প্লাস্টিক। এই মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন আমাদের ফুড চেইনে (খাদ্য শৃঙ্খলে) ঢুকে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এখানকার পাশের নালাতেও প্লাস্টিক ভাসতে দেখেছি, যা স্থানীয় মানুষই ফেলেছে। আমরা যদি শুধু সিটি কর্পোরেশন বা প্রশাসনকে দায়ী করি, তাহলে সমাধান হবে না। প্রত্যেকে যদি নিজ থেকে ভাবি যে, 'অন্যরা ফেললেও আমি ময়লা ফেলবো না', তবেই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব।
বিতর্ক প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে শরফ উদ্দিন আহাম্মদ চৌধুরী বলেন, যে সমাজে বিতর্ক নেই, সেটি একটি স্থবির সমাজ। সমাজ গতিশীল হলে সেখানে বিতর্ক থাকবেই। বিতর্ক মানে শুধু তর্কে লিপ্ত হওয়া নয়, যুক্তি ও বিতর্কের মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও দ্বন্দ্বহীন সমাজ গড়ে ওঠে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে ভিন্ন মত মেনে নেওয়ার ও যুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়ার চর্চা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন এই চর্চা বন্ধ থাকায় আমরা প্রশ্ন করা ভুলে গিয়েছিলাম। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে নতুনভাবে তৈরি করার সুযোগ এসেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান মুন্সী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সিফাত উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

