মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

|

আষাঢ় ১ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ব্র্যাকের আরও ৩টি নতুন ‘শিখন তরী’র উদ্বোধন, উচ্ছ্বসিত শিশুরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:৪৫, ১৬ জুন ২০২৬

ব্র্যাকের আরও ৩টি নতুন ‘শিখন তরী’র উদ্বোধন, উচ্ছ্বসিত শিশুরা

ফাইল ছবি

ব্র্যাকের আরও তিনটি নতুন অভিজ্ঞতাভিত্তিক ‘শিখন তরী’র উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্র্যাকের ভাসমান শিক্ষাক্ষেত্রের সংখ্যা এখন ছয়ে দাঁড়াল। নদীবেষ্টিত ও হাওরাঞ্চলের দুর্গম এলাকার শিশুদের রোবোটিকস, ডিজিটাল লার্নিং, পরিবেশ ও ইতিহাসের মতো বিষয়ে হাতে-কলমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব ভাসমান শিক্ষাক্ষেত্র নদীকে পরিণত করছে শ্রেণিকক্ষে। নদীবেষ্টিত অঞ্চলের শিশুদের এমন সব প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে, যেগুলোর অভিজ্ঞতা তারা আগে কখনও পায়নি। 

সোমবার (১৫ জুন) নারায়ণগঞ্জের কদম রসুল দরগাহ মাঠে নতুন শিখন তরীগুলো উদ্বোধন করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্‌। শিখন তরীর কার্যক্রম ও উপকরণগুলো বিশেষভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য সাজানো হয়েছে, তবে অন্যান্য শিক্ষার্থী এবং দর্শকেরাও এখানে শেখার আনন্দ অনুভব করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে আসিফ সালেহ্‌ বলেন, মুখস্তবিদ্যা দিয়ে হয়তো পরীক্ষায় পাস করা যায়, কিন্তু বাস্তব জীবনে সমস্যার সমাধান করা যায় না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বড় ঘাটতি হলো, শ্রেণিকক্ষে শেখার সঙ্গে বাস্তব জীবনের সংযোগটি শিক্ষার্থীদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয় না।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে সমস্যা অনেক, কিন্তু সমাধান দেওয়ার মানুষ কম। আমি চাই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সমস্যা সমাধানের জন্য যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক। ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হলে শুধু তথ্য মুখস্ত করলেই হবে না; বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির হেড অব সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজেস নিভিন রেজা, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজমল হোসেন। 

২০১১ সালে ব্র্যাক দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাপ্রবণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষাচালু করেছিল শিক্ষাতরী। সেই কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলে কয়েকটি তরী অবশিষ্ট ছিল। ব্র্যাকের ৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগে এই তরীগুলোকে খেলাধুলা ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শেখার জায়গায় রূপান্তর করা শুরু হয়। চালু হয় ব্র্যাকের অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন তরী। প্রথম তিনটি তরী ছিল বিজ্ঞান, গণিত ও মূল্যবোধভিত্তিক।

নতুন তরীগুলোর মধ্যে পরিবেশ তরী তুলে ধরেছে বাংলাদেশের শিশুদের জীবনের অন্যতম বড় বাস্তবতা জলবায়ু পরিবর্তনকে। ভাসমান পরিবেশভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে তৈরি এই তরীতে শিশুরা পরিবেশ সচেতনতা, টেকসই জীবনধারা, জীববৈচিত্র্য, দূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য এবং পরিবেশগত দায়িত্ববোধ সম্পর্কে শিখছে।