ফাইল ছবি
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ। সবজি, চাল, মাছ ও মাংসের দাম দীর্ঘদিন ধরে চড়া থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে কোনো কোনো পণ্যের দাম সামান্য কমলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম এখনো আগের বাড়তি অবস্থাতেই রয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে সবজির দামে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে। লাউ, বেগুন, বরবটি, গাজর, টমেটো, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন সবজি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। মান ও আকারভেদে অনেক সবজির দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ক্যাপসিকামের মতো কিছু সবজির দাম আবার ৩০০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছে।
শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাক, কলমি, পুঁই, লাউ ও পালং শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। ফলে কম দামে সবজি দিয়ে পরিবারের খাবারের তালিকা সাজানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের।
সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংসের বাজারও ক্রেতাদের বাড়তি ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে ব্রয়লার প্রতি কেজি প্রায় ২০০ টাকা। লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা এবং সোনালি কক বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা কেজি দরে।
মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ইলিশ। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ছোট ইলিশের দাম প্রায় ৮০০ টাকা কেজি।
এ ছাড়া রুই ও কাতল আকারভেদে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা, গ্রাস কার্প ৩০০, সিলভার কার্প ২২০ থেকে ৩০০, পাঙ্গাশ ২২০ থেকে ২৫০ এবং পোয়া ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০, টেংরা ৭০০, বাইম ৮০০, বেলে ৯০০, ছোট চিংড়ি ৯০০, বড় চিংড়ি ১ হাজার ৫০০ এবং বোয়াল ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুদি পণ্যের বাজারেও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকা, রসুন ১২০ এবং আদা ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম তুলনামূলক কম হলেও কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা রয়েছে।
চালের ক্ষেত্রেও রয়েছে দামের পার্থক্য। মিনিকেট মোজাম্মেল ৮৫ টাকা, মিনিকেট রশিদ ও ফ্রেশ ৮০ টাকা, আটাশ ৫৫, পাইজাম ৬০ এবং গুটি-স্বর্ণা মোটা চাল ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সয়াবিন তেলের সরবরাহ নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দাম বাড়ার ঘোষণার পর বিভিন্ন দোকানে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় দোকানে তেল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। যেসব দোকানে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে প্রতি লিটার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সুপারশপে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা লিটার।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কোনো পণ্যের দাম একবার বেড়ে গেলে সেটি আর সহজে আগের অবস্থায় ফেরে না। ফলে আয় একই থাকলেও প্রতিমাসে বাজার খরচ বাড়ছে।
নারায়ণগঞ্জের একজন ক্রেতার ভাষ্য, বাজারে দু-একটি পণ্যের দাম কমলেও অধিকাংশ নিত্যপণ্য এখনো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে পরিবারের প্রয়োজনীয় বাজারের তালিকা ছোট করতে হচ্ছে। বিশেষ করে মাছ-মাংস ও সবজির দাম সামলাতে গিয়ে অন্য খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।
বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের এককভাবে দায়ী করা ঠিক নয়। পাইকারি বাজার থেকে যে দামে পণ্য কিনতে হয়, তার সঙ্গে পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়। আবার প্রতিদিন কিছু পণ্য বিক্রি না হয়ে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এসব খরচ হিসাব করেই খুচরা দাম নির্ধারণ করতে হয়।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে এবং পাইকারি পর্যায়ে দাম কমে না এলে খুচরা বাজারে দ্রুত স্বস্তি ফেরানো কঠিন। এ অবস্থায় বাজার মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
তাদের প্রত্যাশা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি আরও কার্যকর করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা বাড়তি দামের চাপ থেকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ দ্রুত স্বস্তি চান।

