ফাইল ছবি
ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে নগরবাসীর উদ্বেগের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রমে আগের তুলনায় ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাতের দখলও আবার বাড়তে শুরু করেছে। একদিকে মশার উপদ্রব, অন্যদিকে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হকারদের বসায় নগরবাসীর ভোগান্তি নতুন করে বাড়ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে যখন বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজন, তখন অনেক জায়গায় সেই তৎপরতা আগের মতো চোখে পড়ছে না। কিছু এলাকায় ওষুধ ছিটানো হলেও তা নিয়মিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ডোবা-নালা, ময়লার স্তূপ ও পরিত্যক্ত জায়গাগুলোতে মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
এর আগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নগরজুড়ে আলোচনা তৈরি হলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ২৭টি ওয়ার্ডে শতাধিক ডেঙ্গু হটস্পট চিহ্নিত করার কথা জানানো হয়েছিল। এসব হটস্পটের মধ্যে ডোবা, নালা, ময়লার ভাগাড় ও পরিত্যক্ত স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে মশক নিধন ও ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার কথা বলা হয়।
নগরবাসীর দাবি, শুরুতে তৎপরতা থাকলেও বর্তমানে অনেক এলাকায় সেই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা কমেছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকার পাশাপাশি বাজার, সড়কের পাশের নোংরা স্থান ও পানি জমে থাকা জায়গাগুলোতে নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ না হলে মশার বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরের সড়ক ও ফুটপাত নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কিছুদিন তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে আবারও হকারদের বসতে দেখা যাচ্ছে। ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর পাশাপাশি কোথাও কোথাও সড়কের একাংশও ব্যবহার করছেন তারা।
ফলে পথচারীদের অনেকেই ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। ব্যস্ত সময়ে যানজটের পেছনেও ফুটপাত ও সড়ক দখলকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন নগরবাসী।
নগরবাসীর প্রশ্ন, একদিকে মশার বংশবিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম চালানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ফুটপাত ও সড়কের পাশে যত্রতত্র বর্জ্য জমে থাকলে কিংবা হকারদের দখলে থাকলে কার্যকরভাবে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব?
নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতে, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে কিংবা বিশেষ কর্মসূচি নিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মশক নিধন কার্যক্রমকে নিয়মিত ও এলাকাভিত্তিক করতে হবে। একই সঙ্গে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হলে হকার ব্যবস্থাপনায়ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির কারণে নগরবাসীর মধ্যে যখন মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তখন মশক নিধন কার্যক্রমে কোনো ধরনের শিথিলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি সড়ক ও ফুটপাতের দখলও নগরের স্বাভাবিক পরিবেশ ও চলাচল ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মশক নিধন কার্যক্রমে আবারও গতি ফেরানোর পাশাপাশি সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে শুধু অভিযাননির্ভর নয়, এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

