শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

ভাদ্র ১৯ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

‘গুলি তার বুকে লেগেছে, অবস্থা ভালো না’, শহীদ রাসেলের বাবা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ০১:০৭, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘গুলি তার বুকে লেগেছে, অবস্থা ভালো না’, শহীদ রাসেলের বাবা

ফাইল ছবি

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছেন আন্দোলনে নিহত পোশাককর্মী রাসেলের বাবা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই জবানবন্দি দেন তিনি।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থান দমনে অস্ত্র হাতে নিয়ে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান।

ছাত্র-জনতাকে হত্যার জন্য পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন শামীম ওসমান। তিনি নিজেও অস্ত্র হাতে নিয়ে গুলি করেছেন।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিনটির মধ্যে প্রথম অভিযোগ হলো, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ২১ জুলাই ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়।

তৃতীয় অভিযোগ, ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যা করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুমতি নিয়ে নিজের সশস্ত্র বাহিনী তথা এ মামলার ১১ আসামিকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডে মেতে ওঠেন শামীম ওসমান।

এ মামলায় শামীম ওসমান ছাড়াও তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। তবে আসামিদের সবাই পলাতক।

রাসেলের বাবা পিন্টু রহমান বলেন, রাসেল নারায়ণগঞ্জে জেলায় আমার ফুফাতো ভাই বুলবুলের সঙ্গে ইব্রাহিম কারখানাতে কাজ করত। ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই বিকালের দিকে আমার ছেলে ফোন করে আমাদের খোঁজ খবর নেয়। সে বলে আমি আন্দোলনে যাচ্ছি, আব্বু আমার জন্য দোয়া কর। একথা বলে সে আন্দোলনে চলে যায়। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তার বন্ধুর ফোন থেকে আমার ফোনে কল আসে। কল রিসিভ করার পর আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি রাসেলের বাবা নাকি? আমি বলি, জ্বি আমি রাসেলের বাবা। তখন তারা আমাকে বলে রাসেল নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গুলি তার বুকে লেগেছে, তার অবস্থা ভালো না, আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। আপনারা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আসেন। 

রাসেলের বাবা বলেন, নওগাঁ জেলায় কারফিউ চলার কারণে আমি ঢাকায় আসতে পারিনি। রাসেল নারায়ণগঞ্জে থাকতো। আমরা নওগাঁয় বসবাস করি। রাসেল যে ফ্যাক্টরিতে কাজ করতো, সে ফ্যাক্টরীর মালিক বুলবুল আমার এলাকার আত্মীয়। আমি আসতে না পারায় বুলবুলসহ আমার চাচাতো ভাই রফিকুলকে আমি ঢাকা মেডিকেলে পাঠাই।

পিন্টু রহমান জবানবন্দিতে আরও বলেন, পরবর্তীতে ২২ জুলাই সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আমার ফুফাতো ভাই বুলবুল আমাকে কল করে বলে আমার ছেলে রাসেল ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে মারা গেছে। আমি উপায় না পেয়ে বুলবুলকে ছেলের লাশ নওগাঁ নিয়ে আসার অনুরোধ করি। আমার ফুফাতো ভাই বুলবুল আমার ছেলে রাসেলের লাশ অ্যাম্বুলেন্স করে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে তার জানাজা নামাজ শেষে আমাদের নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করি।

তিনি বলেন, ছেলে মারা যাওয়ার পর খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি, বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়, ফেসবুক ও ইউটিউবে আমার ছেলে রাসেল যে দিন মারা যায় অর্থাৎ গত ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, ভিকি, সাংবাদিক রাজু, রিয়াদ, ডিস বাবুসহ নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অস্ত্র দিয়ে চাষাড়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি করতে করতে সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ বিবি রোড, নয়ামাটি এলাকার দিকে যায়। এ সময় অনেক লোক এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। ঘটনা অনেকে দেখেছে আসামীদের গুলিতে আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছে।