সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ৮ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতি করে অবৈধ সিম নিবন্ধন, ফতুল্লায় দুইজন গ্রেপ্তার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৯:২৫, ২৪ আগস্ট ২০২৬

ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতি করে অবৈধ সিম নিবন্ধন, ফতুল্লায় দুইজন গ্রেপ্তার

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কৃত্রিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি করে অবৈধভাবে সিম নিবন্ধন এবং এসব সিম ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। এ সময় তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, প্রিন্টার, বায়োমেট্রিক স্ক্যানার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও বিপুলসংখ্যক সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফতুল্লার মধ্য নরসিংপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব-১১ সদর কোম্পানির একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মধ্য নরসিংপুর এলাকার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (২৯), তার বাবার নাম রুহুল আমিন এবং একই এলাকার মোহাম্মদ শিশির (২৭), তার বাবার নাম মোহাম্মদ দুলাল হোসেন।

র‌্যাব জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ সিম নিবন্ধন করে আসছিল। চক্রটির সদস্যরা অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সাধারণ মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করত। পরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ট্রেসিং পেপারে এসব ফিঙ্গারপ্রিন্টের প্রতিলিপি তৈরি করে রাবার সিল মেশিনের মাধ্যমে কৃত্রিম ছাপ প্রস্তুত করা হতো।

এসব কৃত্রিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে বায়োমেট্রিক স্ক্যানারের মাধ্যমে বিভিন্ন সিমকার্ড অবৈধভাবে নিবন্ধন করা হতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছে বলে দাবি র‌্যাবের।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, একটি রাবার সিল মেশিন, ৮০টি রাবার সিলের প্লাস্টিক স্ট্যান্ড, আটটি বায়োমেট্রিক স্ক্যানার, এক হাজারটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরির রাবার কিট, ৩৫টি ট্রেসিং পেপার, ১০০টি রবি কোম্পানির সিমকার্ড এবং তিনটি মোবাইল ফোনসহ একাধিক ব্যবহৃত সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে নিবন্ধন করা সিমগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন সাইবার অপরাধে ব্যবহার করা হতো। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি ও পরিবর্তনের কাজও করা হতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব ভুয়া পরিচয়পত্র ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট খোলার পর প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এ ধরনের জালিয়াতি শুধু সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়, একই সঙ্গে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের সুযোগ তৈরি করে। ফলে অবৈধ সিম নিবন্ধনের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।