সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ৮ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

আড়াইহাজারে শিশুকে হত্যার দুইমাস পর ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৪

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৯:২৬, ২৪ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৯:৩৭, ২৪ আগস্ট ২০২৬

আড়াইহাজারে শিশুকে হত্যার দুইমাস পর ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৪

প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুকুর থেকে দেড় বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রায় দুই মাস পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

সোমবার (২৪ আগস্ট) শিশুটির বাবা মাইদুল বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে শিশুটির মৃত্যু মাথায় আঘাতজনিত কারণে এবং হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ পাওয়ার পর এ মামলা করা হয়।

মামলায় আসামিরা হলেন- এমদাদ কাজী (৪৫), আতিকুল কাজী (৩২), শান্ত কাজী (২৩), আতাব কাজী (৫০), হাবিব কাজী (২১) ও শিউলী (৩৫)। তাদের সবার বাড়ি আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ইদবারদী কাজীপাড়া এলাকায়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

এদের মধ্যে মামলা দায়েরের পর আতিকুল কাজী, শান্ত কাজী, হাবিব কাজী ও শিউলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশু মারজিয়া আক্তার মাইশার বয়স ছিল এক বছর ছয় মাস। সে আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের কুমারবাগ গ্রামের বাসিন্দা। মামলার আসামিরা বাদীর প্রতিবেশী এবং বাড়ির সীমানা নিয়ে তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুন বিকেল ৪টার দিকে তিনি তার দুই মেয়েকে বাড়ির উঠানে রেখে অটোরিকশা নিয়ে ধন্দী বাজারের দিকে চলে যান। এ সময় তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম পাশে রান্না করছিলেন।

কিছুক্ষণ পর বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শিশুদের উঠানে রেখে তার মা ঘরে ফ্রিজে মাছ রাখতে যান। প্রায় ১০ মিনিট পর বাইরে এসে ছোট মেয়ে মারজিয়াকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খবর পেয়ে শিশুটির বাবা বাড়িতে ফিরে স্থানীয়দের নিয়ে পুকুর, ডোবাসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন।

শিশুটির সন্ধান না পেয়ে পরদিন ২১ জুন আড়াইহাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বাবা। 

এরপর ২২ জুন সকাল সোয়া ৯টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া) মর্গে পাঠায়।

প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তের চিকিৎসা প্রতিবেদনে শিশুটির মাথায় আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ ও শকের ফলে মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাটি হত্যাকাণ্ডজনিত বলে মতামত দেওয়া হয়।

এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, বাড়ির সীমানা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুরে ফেলে রাখা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মামলার বাদী জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি উঠে আসার পর আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করেছেন।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, ইতোমধ্যে মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।