শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

|

পৌষ ২৬ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

হাতপাখা প্রার্থী সিরাজীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২২:৩২, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

হাতপাখা প্রার্থী সিরাজীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজী আল মাদানী ওরফে কাওসারের বিরুদ্ধে কানাডার টুরিস্ট ভিসার নামে অর্থ আত্মসাৎ, মারধর, অবরুদ্ধ করে নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী মোজহারুল ইসলাম এসব কথা জানান।

ভুক্তভোগী মো. মোজহারুল ইসলাম নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বাসিন্দা। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, এম এ এম ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল ও লর্ড ট্রাভেলস এন্ড টুরিস্টের চেয়ারম্যান মুফতি ইসমাইল সিরাজী আল মাদানীর সঙ্গে কানাডার ভিজিট ভিসার জন্য কামরুল পাশা জুয়েল ও আব্দুল আজিজের মোট ৩২ লাখ টাকার চুক্তি হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে জুয়েল তিন লাখ এবং আজিজ দুই লাখ টাকা নগদ প্রদান করেন। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, চুক্তির পর প্রায় এক বছর ধরে কানাডা পাঠানোর আশ্বাস দিলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বারবার টাকা ফেরত চাইলে তা দেওয়া হয়নি। পরে গত বছরের ১৬ অক্টোবর ঢাকার পুরানা পল্টনে লর্ড ট্রাভেলসের কার্যালয়ে তাকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে  টাকা চাইতে গেলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।

মাজহারুল ইসলামের অভিযোগ, পাওনা টাকার কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে মুফতি ইসমাইল সিরাজী ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর হামলা চালান। বেদরক মারধরে তিনি ও প্রবাসী আব্দুল আজিজ অফিসের ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন। প্রায় চার ঘণ্টা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত আব্দুল আজিজকে ওষুধ খেতেও বাধা দেওয়া হয়। এ সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এবং মেডিকেল রিপোর্ট থাকার দাবিও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার রাতেই উল্টো অভিযুক্ত সিরাজী পল্টন মডেল থানায় একটি জিডি করেন। ভুক্তভোগীরা তখন আব্দুল আজিজের শিশু কন্যা ঢাকার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যেতে পারেননি। পরে থানায় গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের বিরুদ্ধেই আগে জিডি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, আলেম পরিচয় ও ধর্মীয় বেশভূষা দেখে তারা বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু ঘটনার পর তারা তাকে প্রতারক ও অর্থ আত্মসাৎকারী বলে দাবি করছেন। বর্তমানে তারা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিয়মিত হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন।

এ ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমে অভিযোগ জানানো হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং জাতীয় অপরাধ বিষয়ক একটি পত্রিকায় ভিডিও ও প্রিন্ট প্রতিবেদনের মাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই সংসদ সদস্য প্রার্থী সিরাজীকে ঘিরে সমালোচনা আরও তীব্র হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে তাদের পাওনা চার লাখ টাকা ফেরত দেওয়া এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।