গণমাধ্যম কর্মী ও সম্পাদকদের সাথে মতবিনিময় সভা
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ ও হকার সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। অটোরিকশা চালকদের ডিজিটাল প্লেট ও আইডি কার্ড প্রদানের মাধ্যমে প্রহরা বসিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং বঙ্গবন্ধু সড়কের হকারদের শিঘ্রই উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন করা হবে বলে জানিয়েছেন নাসিক প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তবে যেসকল হকার ও অটোরিকশা চালকেরা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা তারাই এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের গণমাধ্যম কর্মী ও সম্পাদকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত।
এসময় তিনি বলেন, আমাদের যারা জনপ্রতিনিধি আছে সকলের মন মানসিকতা একই। আমাদের এমপি সাহেব ওমরাহ তে যাওয়ার আগে বলে গেছেন এই বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে। তিনি এসে আমার সাথে বসবেন৷ আমাদের জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহেবসহ নারায়ণগঞ্জে যারা আছে সকলের একই মত। এই হকারও অটো সমস্যার সমাধান করতে হবে। এটা করতে হলে সাংবাদিকেরা বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গত পনেরো বছর আমরা দেখেছি একটা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উচ্ছেদের। সেসময় একটা গোষ্ঠী দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। তারা তাদের রক্ষা করতে চেয়েছে। এবার সরকারি দলে সেরকম সমস্যা নেই। থাকলেও তারা মূল নেতৃত্বে নেই।
সাখাওয়াত বলেন, যারা এখানে এসেছেন তারা সবচেয়ে শক্তিশালী। বাংলাদেশ শুধু নয়, বর্তমান বিশ্বে সরকারের তিনটি অঙ্গ। শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগ। এর সাথে চতুর্থ অংশ হিসেবে আমরা মিডিয়াকে ধরি। মিডিয়ার ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই। আপনাদের মতামতের প্রাধান্য দেয়া হবে। আমাদের সিদ্ধান্ত হল আমরা মূল সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদ করতে চাই। অটো সমস্যারও সমাধান করতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা জানতাম সাড়ে সাত হাজার অটোর লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, পরে এখানে এসে জানলাম প্রায় ১৮ হাজার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এতটুকু শহরের এত অটোর ভার বহনের সক্ষমতা নেই। আমি পর্যালোচনা করে দেখেছি অনেক আড়ৎদার হয়েছে। তারা দুশো তিনশো করে লাইসেন্স নিয়েছে। আমি এটা রাখতে চাই না। সিটি করপোরেশনের প্রতিটি সড়কে লাইসেন্স থাকবে। এখানে তিন চাকা ছাড়া অন্য কোন গাড়ি ঢুকতে পারবে না। ওয়ান আইডি ওয়ান ভিহাইক্যাল আমরা করবো।
আমরা নমুনা তৈরি করেছি। এই প্লেটগুলো রেডি করেছি। এটা ডিজিটাল। এখানে প্রত্যেকের গলায় কার্ড থাকবে। আমাদের কর্মীদের কাছে স্ক্যানার থাকবে। এটা সঠিক কীনা তা সেই মেশিনের মাধ্যমে যাচাই হবে। একজনের নামে লাইসেন্স নিয়ে অন্য কেউ চালালে সেই লাইসেন্স বাতিল হবে।
হকার ও অটোর সমস্যার মূলে যারা তাদের পঁচানব্বই শতাংশ মানুষ অন্য জেলার। তারা নারায়ণগঞ্জের ভোটার না। আমার ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত যারা সিটির ভোটার তাদেরকেই আপাতত এগুলো দিবো। এরপর প্রতিটি রাস্তায় আমরা পাহাড়ার ব্যাবস্থা করবো। যেন বাইরের অটো নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করতে না পারে। এবং হকারদের বিষয়টা হল আপাতত আমরা বঙ্গবন্ধু সড়কটি দ্রুত হকার মুক্ত করতে চাই। পরবর্তীতে প্রতিটি সড়ক আমরা হকার মুক্ত করবো। তবে হকাররাও এদেশের নাগরিক। আমরা তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করবো। সেটা শুধুমাত্র সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের জন্য।

