ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কলঙ্ক সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের রহমান জিকু। দীর্ঘদিন জেলা ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকলেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন না তারা। দীর্ঘদিন নেতৃত্বে থাকলেও জেলার কোন ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেননি তারা।
২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ২৬ জানুয়ারি নাহিদকে সভাপতি ও জিকুকে সাধারণ সম্পাদক করে নয় সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।
জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে থাকলেও সেসময় রাজপথে তেমন একটা সক্রিয় দেখা যায়নি তাদের। সাবেক ছাত্রদল ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরাই সেসময় ছাত্রদলের ব্যানারে রাজপথ দখলে রেখেছিল।
নাহিদ ও জিকুর উপর জেলা ছাত্রদলের ইউনিট কমিটির পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। নাহিদ ও জিকু দীর্ঘদিন নেতৃত্বে থাকলেও কমিটি দিতে পারেননি। ফলে দলীয় পরিচয় থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ বঞ্চিত হয়েছেন নেতাকর্মীরা। অনেক নেতাকর্মী কোন পদ পদবী ছাড়াই অন্য অঙ্গ সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের আমলে আন্দোলন সংগ্রামে গ্রেপ্তার ও হামলা, মামলায় জর্জরিত ছিলেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। নির্যাতিত এসকল নেতাকর্মীদের পাশে দেখা যায়নি নাহিদ ও জিকুকে। বড় কোন কর্মসূচি আসলেই আত্মগোপনে চলে যেতেন এই দুই শীর্ষ নেতা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি হরতাল ও অবরোধ ডাকলে ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী সেসময় রাজপথ থেকে গ্রেপ্তার হন। এসকল নেতাকর্মীদের ও তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নেননি তারা।
এর আগে ২০২২ সালে জিকুর এলাকা আড়াইহাজারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের ইতিহাতে এটি খুবই জঘন্য নজির। নিজ এলাকা হলেও সেসময় দলের শীর্ষ নেতাদের উদ্ধারে কোন উদ্যোগ নিতে পারেননি জিকু। বাইরের এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা এসে সেসময় আড়াইহাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল। আড়াইহাজারের আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে আঁতাত করে চলার অভিযোগ ছিল জিকুর বিরুদ্ধে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও রাজপথে খুব একটা সক্রিয় ছিল এই দুই নেতার অনুসারীরা। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মাঠে থাকলেও নাহিদ ও জিকুকে কাছে পায়নি তারা। এখনও তাদের খোঁজ পাননা ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
পাঁচ আগষ্টের পরে দখল বানিজ্যসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠে নাহিদ ও জিকুর বিরুদ্ধে যদিও তারা তা অস্বীকার করেন। নিজ নিজ এলাকায় দখল সহ চরম বিতর্ক সৃষ্টি হলে এক পর্যায়ে জেলা ছাত্রদলের কমিটিসহ সকল ইউনিটের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই দীর্ঘ সতেরো মাস যাবৎ কমিটিহীন অবস্থায় আছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

