শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

|

জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ফতুল্লায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় ট্রাকচালককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:০৪, ২৪ মে ২০২৬

ফতুল্লায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় ট্রাকচালককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় সুমন (২৮) নামের এক ট্রাকচালককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। 

শনিবার (২৩ মে) সকালে ফতুল্লার পঞ্চবটী মেথরখোলাস্থ পৌর টার্মিনালের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

​এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে হাতেম (৩০) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় চালক ও শ্রমিকরা।

​নিহত সুমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামের নারায়ণের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। অন্যদিকে আটককৃত হাতেম ফতুল্লা মডেল থানার মুসলিমনগর এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে এবং একই টার্মিনালের একটি ট্রাকের হেলপার। তারা দুজনই পঞ্চবটী পৌর টার্মিনাল সংলগ্ন বোডবাড়ী এলাকার নুরি মিয়ার বাড়িতে পাশাপাশি কক্ষে ভাড়া থাকতেন।

​স্থানীয় ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, আটক হাতেম নিয়মিত ঘরের ভেতর মাদক সেবন করতেন। সুমন বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বাড়ির মালিককেও বিষয়টি অবগত করেন। এতে সুমনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হাতেম।

​শনিবার সকাল ১০টার দিকে সুমন হেঁটে পৌর টার্মিনালে নিজের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। তিনি টার্মিনালের সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা হাতেম পেছন থেকে কাঠের টুকরো দিয়ে সুমনের মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে সুমন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

​গুরুতর আহত অবস্থায় সহকর্মীরা সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ঢামেকে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় পরবর্তীতে তাকে রামপুরার ডেল্টা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে সুমনের মৃত্যু হয়।

​একই টার্মিনালের শ্রমিক মো. শুক্কুর মিয়া জানান, সকালে খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে ছুটি যাই। মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় হাতেম ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের টুকরো দিয়ে সুমনের মাথায় ও ঘাড়ে আঘাত করে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

​ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, রাতে বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়রা একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তবে এই ঘটনায় এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ বা যোগাযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।