শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

|

আষাঢ় ৪ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

দাম স্থিতিশীল, তবুও চাপে নারায়ণগঞ্জের ক্রেতারা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:০৪, ১৯ জুন ২০২৬

দাম স্থিতিশীল, তবুও চাপে নারায়ণগঞ্জের ক্রেতারা

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গত কয়েকদিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। অধিকাংশ পণ্য আগের উচ্চমূল্যেই বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে দাম না বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যে বাজার করতে গিয়ে চাপে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার (১৯ জুন) শহরের দিগুবাবুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সবজির বাজারে বেগুন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ও উচ্ছে ৮০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ভেন্ডি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা এবং বরবটি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা এবং জালি কুমড়া ৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

শাকের বাজারে লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ও লাউশাক ৩০ টাকা, কলমিশাক ১০ টাকা এবং কচুশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি ২৫ টাকায় স্থির রয়েছে।

কালিরবাজারে বাজার করতে আসা গৃহিণী রওশন আরা বলেন, “নতুন করে দাম না বাড়লেও আগের দামই অনেক বেশি। প্রতিদিনের বাজার করতে গিয়ে হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

চাষাঢ়ার আরেক ক্রেতা মো. সেলিম জানান, কয়েকটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও অধিকাংশ পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।

চালের বাজারে স্বর্ণা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা, পাইজাম চাল ৬০ টাকা এবং মিনিকেট ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডালের মধ্যে দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, বড় মসুর ডাল ১০০ টাকা এবং ছোলার ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বকরির মাংস ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

মাছের বাজারেও দাম চড়া রয়েছে। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই ও কাতল মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বোয়াল ৭০০ টাকা এবং ট্যাংরা মাছ ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মসলার বাজারে দেশি রসুন ১০০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিতাইগঞ্জের এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, পাইকারি বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না থাকায় খুচরা বাজারেও দাম স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন করে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, দাম স্থিতিশীল থাকলেও তা স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নেই। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাজার খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়া বলেন, “বাজারে দাম আর না বাড়লেও বর্তমান দামে সংসার চালানোই কষ্টকর। আয় বাড়েনি, কিন্তু বাজার খরচ প্রতিনিয়ত চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নেই।”

সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বাজারে। বর্তমানে দাম স্থিতিশীল থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে ভোগান্তি কমছে না।