বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

|

আষাঢ় ২ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

পদ্মা রেল সেতু এলাকায় মাটি অপসারণ বন্ধ, সৌন্দর্যবর্ধনে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:৫৬, ১৭ জুন ২০২৬

পদ্মা রেল সেতু এলাকায় মাটি অপসারণ বন্ধ, সৌন্দর্যবর্ধনে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত

ফাইল ছবি

পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় সেতুর পিলারের কাছ থেকে মাটি অপসারণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের পর ওই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর পিলারের কাছে যে মাটি সরানো হয়েছে, তা কোনো ক্ষতিকর বা স্থায়ী নির্মাণের অংশ ছিল না। মূলত নির্মাণকাজের সময় অস্থায়ীভাবে রাখা কিছু অবস্টাকল বা ব্যারিয়ার ছিল, যা পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী সরানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, নির্মাণকাজ শেষে অস্থায়ীভাবে রাখা ওই মাটি সরানো হয়েছে এবং এখন সেখানে সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। “যেহেতু বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তাই আপাতত মাটি অপসারণের কাজ বন্ধ রেখে সেখানে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে,” বলেন মন্ত্রী।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেলওয়ে সংযোগ সেতুর কয়েকটি পিলারের আশপাশ থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র খননযন্ত্র দিয়ে পিলারের গোড়া থেকে মাটি কেটে ট্রাকে করে ইটভাটায় বিক্রি করেছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর পিলারের আশপাশে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে এলাকাজুড়ে গর্ত সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে মাটি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ওই অংশটি আগে জলাশয় ছিল এবং নির্মাণকাজের সুবিধার্থে সেখানে অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় পুনরায় জলাশয় পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবেই মাটি সরানো হচ্ছিল।

পদ্মা রেলসেতু প্রকল্পের প্রকৌশলী আমিনুল করিম বলেন, পিলারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। স্থানীয়দের মধ্যে ভুল ধারণা থেকে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ পাঠিয়ে মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।