শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

|

আষাঢ় ৪ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

রাত হলেই ছিনতাই-চুরির আতঙ্ক বাড়ছে নারায়ণগঞ্জ শহরে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২১:১৬, ১৯ জুন ২০২৬

রাত হলেই ছিনতাই-চুরির আতঙ্ক বাড়ছে নারায়ণগঞ্জ শহরে

প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জ শহরে রাত নামলেই ছিনতাই ও চুরির আতঙ্ক বাড়ছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ছিনতাইকারীদের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গার্মেন্টসকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া থেকে মাসদাইর কবরস্থান পর্যন্ত এলাকা এখন ছিনতাইকারীদের ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিদিনই রাতে এ রুটে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এসব এলাকায় ছিনতাইয়ের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। একইভাবে শহরের দুই নম্বর রেলগেট থেকে দেওভোগ ও নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত এলাকাতেও ছিনতাইকারীদের একাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে।

এসব ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। রাতে কাজ শেষে ফেরার পথে অনেককে থামিয়ে অস্ত্রের মুখে মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছোট ছোট এবং বারবার ঘটতে থাকা এসব ঘটনায় বেশিরভাগ ভুক্তভোগীই থানায় অভিযোগ বা মামলা করতে আগ্রহী হন না।
গত ৫ জুন শহরের মাসদাইর কবরস্থানের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া আসিফ জানান, রাত ১১টার দিকে বন্ধুর বাসা থেকে আসার সময় কয়েকজন যুবক চাকু দেখিয়ে আমাকে রাস্তায় আটকায়। পরে সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা নিয়ে যায়।

শহরের জামতলা এলাকার চায়ের দোকানদার আফজাল হোসেন বলেন, রাস্তার পাশে দোকান হওয়ায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনার কথা শুনি। গত পরশুও রাতে কলেজ রোডের মাথায় একজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। আমি দোকান বন্ধ করতে করতে প্রায়ই রাত ১২টা বেজে যায়। ছিনতাইয়ের উপদ্রবে এখন দেরিতে বাড়ি ফিরতে ভয় হয়।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শহরে চুরির ঘটনাও বেড়েছে। বিশেষ করে সড়কবাতি, বৈদ্যুতিক তার, বাড়িঘরের এসির পাইপসহ ছোট-বড় চুরির ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।

চোরদের উপদ্রবের সবচেয়ে বড় প্রমাণ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। ১৬ কোটি টাকার স্ট্রিট লাইট প্রকল্পের আওতায় ৭৪৮টি সড়কবাতি স্থাপন করা হলেও বাস্তবে শহরের প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কের বড় অংশই এখন অন্ধকারে ডুবে থাকে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অভিযোগ, স্থাপনের পরপরই অনেক জায়গা থেকে সড়কবাতি ও তার খুলে নিয়ে যাচ্ছে চোরচক্র।

এদিকে বারবার চুরির ফলে নতুন করে এসব এলাকায় সড়কবাতি স্থাপনেও অনীহা দেখা দিচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

শহরের মণ্ডলপাড়া এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনেও একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে স্থাপন করা স্ট্রিট লাইটও চুরির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, ইদানীং নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেকটাই কমে গেছে। আমরা এরই মধ্যে অনেক অভিযান পরিচালনা করেছি এবং এখনও করছি। এখন ছিনতাইয়ের অভিযোগ খুবই নগণ্য। ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং দমনে আমাদের বেশ কয়েকটি টিম শহরে কাজ করছে।

লিংক রোডের স্ট্রিট লাইট চুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওখানে আসলে লাইট নেই। আমরা রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা লাইট প্রতিস্থাপন করবে। সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে ধরার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির জানান, এই বিষয়ে আমাদের গত আইন-শৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। আমরা দুইভাবে কাজ করার প্রস্তুতি নিয়েছি। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে সামাজিক কমিটি গঠন করা হবে। একইসঙ্গে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদারে জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে। অপরদিকে ছিনতাইপ্রবণ এলাকা যেমন লিংক রোড, জিমখানা, মাসদাইর, ইসদাইরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যৌথ বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে শহরের এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এসব অপরাধ ঠেকাতে পুলিশি টহল জোরদার এবং কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।