শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ১৩ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল, বদলে যেতে পারে নগর যোগাযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:২৬, ২৮ আগস্ট ২০২৬

গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল, বদলে যেতে পারে নগর যোগাযোগ

প্রতীকী ছবি

ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে। গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্যে ‘এমআরটি লাইন-২’ নামে নতুন একটি প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রুটে পাতাল ও উড়াল—দুই ধরনের মেট্রোরেল ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এর বড় অংশ বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এমআরটি লাইন-২-এর মোট ২৪টি স্টেশন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচলের কথা রয়েছে। এ পথে ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার ও ডেমরাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা লাইন করার প্রস্তাবও রয়েছে। ফলে পুরান ঢাকার সঙ্গে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সরাসরি যোগাযোগ তৈরির পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের যাতায়াত আরও সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

জানা গেছে, এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের সমীক্ষার জন্য গাবতলী থেকে ডেমরা এবং গাবতলী থেকে ডেমরা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত রুট বিবেচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করে গত মে মাসে প্রকল্পের প্রাক-প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (পিডিপিপি) তৈরি করা হয়।

বর্তমানে ওই পিডিপিপি যাচাই-বাছাই করছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের মতামত পাওয়ার পর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ সংগ্রহের জন্য প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানোর কথা রয়েছে। এরপর সমীক্ষাসহ প্রকল্পের মূল কার্যক্রম শুরু হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কবির আহমেদ জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে এমআরটি-২-এর পিডিপিপি পাওয়া গেছে এবং প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বৈদেশিক অর্থায়নের নিশ্চয়তা পেতে এটি ইআরডিতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, ঘনবসতিপূর্ণ ও দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরান ঢাকাকে যুক্ত করায় প্রস্তাবিত এমআরটি-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন প্রকল্প।

প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়েও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংক এমআরটি-২ প্রকল্পে ঋণ সহায়তার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে। প্রকল্পের জন্য সংস্থাটির কাছে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এআইআইবির সঙ্গেও ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, প্রস্তাবিত রুটটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান, ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেন। বর্তমানে সড়কপথের দীর্ঘ যানজটের কারণে এসব যাত্রায় উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়। মেট্রোরেল চালু হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত ও তুলনামূলক নির্ভরযোগ্যভাবে রাজধানীতে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, প্রস্তাবিত লাইনটি রাজধানীর অন্যান্য মেট্রোরেল রুটের সঙ্গেও সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাবতলী অংশে এমআরটি-৫-এর উত্তর ও দক্ষিণ রুট, কমলাপুর অংশে এমআরটি-১, ৪ ও ৬ এবং সাইনবোর্ড স্টেশনে এমআরটি-৪-এর সঙ্গে সংযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এতে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে একাধিক মেট্রোরেল রুট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে প্রকল্পের কাজ শুরুর লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা এগোচ্ছে। সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ রুটে মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে মেট্রোরেলটি নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের যানজট, জনসংখ্যার চাপ এবং শিল্প-বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কারণে নারায়ণগঞ্জের জন্য দ্রুত ও গণমুখী পরিবহন ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। এমআরটি লাইন-২ বাস্তবায়িত হলে শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, নারায়ণগঞ্জের শিল্প, ব্যবসা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।