ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অপরাধীদের তৎপরতার শঙ্কা। নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলি-গলি পর্যন্ত রাতে পর্যাপ্ত তল্লাশি চৌকি ও পুলিশের দৃশ্যমান টহল না থাকায় অপরাধীরা অনেকটা নির্বিঘ্নে চলাচল করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে রাত গভীর হলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত বাড়ার সাথে সাথে মানুষের চলাচল কমতে শুরু করলে পুলিশের উপস্থিতিও কমে আসে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও বের হওয়ার রাস্তাগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি না থাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন সহজেই এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় রাতের সময়কে বেছে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রাতের আঁধারে নির্জন সড়ক, আবাসিক এলাকার গলি কিংবা শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক সড়কগুলোতে অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে অপরাধীদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় রাতের বেলায় পুলিশের টহল চোখে পড়লেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থায়ী বা অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি দেখা যায় না। ফলে অপরাধীরা অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে পারছে।
বিশেষ করে নগরীর আশপাশের বিভিন্ন সংযোগ সড়ক দিয়ে অপরাধীরা এক থানা এলাকা থেকে অন্য থানা এলাকায় চলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত কয়েকটি অপরাধের ঘটনায় রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাতে বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি, সড়কে হামলা কিংবা নির্জন এলাকায় অপরাধ সংঘটনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপস) তারেক আল মেহেদী বলেন, সারাদেশেই অপরাধীরা তাদের অপরাধের জন্য রাতকেই বেশি বেছে নেয়। তাই আমরাও সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত আমাদের বাড়তি নিরাপত্তা টিম নিয়ে কাজ করি।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে অলিগলি অনেক। তার মধ্যে জেলার বাইরের লোকজন বেশি হওয়ায় অপরাধের নির্দিষ্ট কোনো জোন নির্ধারণ করা যায় না। আমাদের পুলিশ সদস্যের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এর মধ্যেই নানা ভাবে চেষ্টা করছি, যেন অপরাধ কমিয়ে আনা যায়।
জনবল সংকটের কথাও জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার জেলা ভিত্তিক জনবল দিচ্ছে। তবে নারায়ণগঞ্জের জনসংখ্যা ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় আরও বেশি জনবল প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকার জেলা ভিত্তিক জনবল দিচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি জনসংখ্যা ভিত্তিক আমাদের যেন জনবল দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ মেট্রোপলিটন হলে আরও পুলিশ পাব। তখন আমরা আরও কাজ করতে পারব বলেই আশা রাখি।
নগরবাসীর দাবি রাতের নারায়ণগঞ্জকে নিরাপদ করতে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। কারণ অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধ করা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বেশি কার্যকর।

