শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২

|

অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

গ্যাস সংকটে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর দুর্ভোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২২:৩৯, ৩ অক্টোবর ২০২২

গ্যাস সংকটে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর দুর্ভোগ

প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গৃহিণীদের। অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় সারাদিন চুলা মিটমিট করে জ্বলে। গ্যাস না থাকায় অনেকে হোটেল থেকে খাবার কিনে আনছেন। এর ফলে ভুক্তভোগীদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। রান্নার কাজে গৃহিণীরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। গ্যাসের সমস্যার প্রভাব শুধু পরিবারগুলোর মধ্যেই পড়ছে না। ব্যাচেলরদের ওপরও পড়ছে। দূর দুরান্ত থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে আসা শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। গ্যাসের সংকটের কারণে সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যেতে পারছে না তারা।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়, মৌচাক, মুক্তিনগর , মাদানিনগর, পাইনাদী নতুন মহল্লা, মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকাসহ  বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের তীব্র  সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

শনিবার ( ০৩ অক্টোবর ) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে গিয়ে এমনই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।

সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকায় গ্যাসের সংকট রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবীতে আমরা মানববন্ধন করেছিলাম। পাশাপাশি তিতাসের নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের এমডি বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছিলাম। সে তখন আশ্বস্থ করেছিলেন গ্যাস আসবে কিন্তু এখনো পর্যন্ত গ্যাস আসে নাই।

তিনি আরো বলেন, গ্যাসের অভাবে বাড়িভাড়া দেয়া যাচ্ছে না। আমরা মাস শেষ হলে যখন ভাড়াটিয়ার নিকট বাড়িভাড়ার সঙ্গে গ্যাসবিল আদায় করতে যাই তখন তারা তা দিতে চায় না।

সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার এলাকার গৃহিণী  রুমি বেগম  বলেন,  আমার দুই ছেলে একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ে । কিন্তু গ্যাসের জন্য তাদের নাস্তা বা দুপুরে টিফিনের  খাবার রান্না করে দিতে পারি না। তাদের বাহিরে খেতে হয়। বাহিরে খেয়ে তাদের প্যাটে ব্যাথা সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, কিছু দিন  আগেও অল্প অল্প  গ্যাস । এখন তাও আসে না। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার বোতল কিনেছি। 'গ্যাস বিল দিয়েও যদি গ্যাস না পাই তাহলে গ্যাস বিল না নিক।

পাইনাদি নতুন মহল্লা এলাকার মনোয়ারা  নামের ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা আক্ষেপের সুরে জানান, গ্যাস না থাকায় আমরা ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করতে পারছি না। আমার নাতিদের অসুখ হয়ে গেছে। আমরা এভাবে কীভাবে বাচঁবো? না খেয়ে পুরো পরিবার  বিছানায় পড়ে গেছি। আমি ২২ বছর ধরে এই মহল্লায় বসবাস করছি কখনো এমন কষ্ট করি নাই। আজ ৫-৬ দিন হয়েছে গ্যাসের কোনো চিহ্ন নাই। ডেইলী বাড়তি টাকা দিয়ে কেরোসিন কিনতে হচ্ছে।  তারপর কাজের বুয়ারাও কাজ করতে চাচ্ছে না। আমরা এভাবে কাজ করবো না। একজনরে যদি বলি কেরোসিন এনে দাও তারেও ২০ টাকা বখশিশ দিতে হয়। ১ মণ খড়ি আনছি ৩২০ টাকায় । তাও ভিজা, চলে না। গন্ধে, ধোঁয়ায় চোখ জ্বালাপোড়া করে, বুকব্যাথা করে। এই মহল্লার সবাই কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা না হয় ১০০ টাকা দিয়ে তেল কিনে আনবো কিন্তু গরিবরা কি করবে। তারা তো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। 

একটি সামাজিক সংগঠনের সদস্য রাশেদুল ইসলাম ইমেল জানান , গ্যাস সংকটের ফলে মানুষের অবস্থা খুব কঠিন। যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। শহরের মানুষের গ্যাসের চুলায় রান্না করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এখন হঠাৎ করে গ্যাসের সংকট থাকায় বাড়ির গৃহিণীরা ভোগান্তিতে পড়ে গেছেন।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসিফ জানান, গ্যাস সংকটের কারণে মানুষ অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।  বিশেষ করে আমরা যারা ম্যাচে থাকি তাদের অবস্থা দিন দিন আরো করুণ হয়ে পড়ছে। গ্যাস কর্তৃপক্ষের উচিত খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান করার।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শাকির আহমেদ জানান, শুধু নারায়ণগঞ্জ না পুরো বাংলাদেশেরই একই অবস্থা। জ্বালানী সংকটের কারণে মূলত এই সমস্যাটি হচ্ছে। এদেশের ৬১% বিদ্যুৎ গ্যাস থেকে হয়। এখন স্বাভাবিকভাবে জ্বালানী সংকটের কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ঠিক রাখার জন্য তাদেরকে বেশি গ্যাস দিতে হচ্ছে। এর ফলে এই চাপটা চলে এসেছে গ্যাসের গ্রাহকদের উপর। এই মাসের ভিতরেই এই অবস্থা নরমাল হবে আমরা শুনেছি।