শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

|

আষাঢ় ৭ ১৪৩১

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাত!

আওয়ামীলীগের সমর্থনে কাঞ্চন বিএনপিতে ভাঙনের মিশন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ৫ মে ২০২৩

আপডেট: ২২:৪২, ৫ মে ২০২৩

আওয়ামীলীগের সমর্থনে কাঞ্চন বিএনপিতে ভাঙনের মিশন

প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা বিএনপির একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে দলে ভাঙ্গন সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এতে মদন দিচ্ছেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতা যাদেরকে রাজপথে নিষ্ক্রিয়তার কারণে বর্তমানে দলে তেমন কোণ গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়নি। 

এর মধ্যে তারা আওয়ামীলীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপির মূলধারার নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করানো, তাদের বাড়িঘরে হামলা চালানো সহ নানা কর্মকান্ডে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে প্রকাশ্যে দলের নেতাদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী করে মূলধারার নেতাকর্মীদের থেকে নানাভাবে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করতে এবং আগামীতে তারা রাজপথে অবস্থান নিলেও কোন বাধা আসবেনা আশ্বাস দিয়ে নেতাকর্মীদের নানাভাবে বিভক্ত করছেন।

মূলত বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও রাজপথে অবস্থান জোরালো করতে না পারা, ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাতসহ নানা অভিযোগে এসব নেতাদের বর্তমানে দলে কোণঠাসা করেছেন কর্মীরা ও নীতি নির্ধারনী মহল। এখন তাই বিকল্প পথে আঁতাত করে দলে ভাঙ্গন সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা নিতে চাচ্ছেন নেতারা।

রূপগঞ্জজুড়ে দলীয় কর্মসূচি দূরের কথা ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও হামলার শিকার হতে হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের, এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ মদদে ও পাহারায় কাঞ্চন বিএনপির একটি অংশ প্রকাশ্যে সরকারদলীয় নেতাদের পাহারায় অনুষ্ঠান পালন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন দলের নেতাকর্মীরা। 

বুধবার (৩ মে) কাঞ্চন পৌরসভা এলাকার ৬ নং ওয়ার্ডের বাজারের পাশে পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হামিদুল খানের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক নেতা ও জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস, বিগত নির্বাচনগুলোতে বিএনপির আন্দোলনের সময় দলের সকলে যখন সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন রাজপথে থাকার তখন অনেকটা ব্যাকফুটে ছিলেন এই নেতা। মাঝে মাঝে শহরের যেকোন গলিতে পুলিশকে ম্যানেজ করে ২ মিনিটের ফটোশ্যুট করে কেন্দ্রে নিজেকে সক্রিয় হিসেবে দাবি করলেও এক সময়ে সেটি কেন্দ্রের কাছে প্রকাশ পেয়ে যায়। ফলে তাকে আর দলের সামনের সারিতে স্থান দেয়া হয়নি।

বর্তমানে তিনি রূপগঞ্জে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের সাথে রাজনীতি করছেন। এর মাঝে মূল ধারা থেকে দলকে ভাঙতে ও দলে বিভাজন তৈরী করতেও একাধিক ছক কষছেন মোশারফ। 

অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পাহাড়াতেই কাঞ্চনে এই ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে পৌরসভার কোথাও বিএনপি নেতাকর্মীদের কোন কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয় না সেখানে কীভাবে হামিদুল খান এত বড় অনুষ্ঠান করলেন তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। 

এদিন বিএনপির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের ভেন্যুর পাশেই একটি স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার সার্বিক অবস্থা পরিদর্শনে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী আসেন। এসময় পুরো এলাকাজুড়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। তবে কর্মসূচিতে কেউ কোন বাধা দেয়নি, উল্টো তাদের পাহাড়া দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। 

নেতাকর্মীরা জানায়, বর্তমানে তিনি কমিটিতে না থেকেও পূর্বের পদ পদবী ব্যাবহার করে এখনও রাজনীতি করছেন হামিদুল। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় বিএনপির অভ্যন্তরে কোন্দল সৃষ্টির নেপথ্যের কারিগর এই হামিদুল।

তারা বলেন, মূলত কাঞ্চন এলাকায় আওয়ামী লীগকে সুবিধা করে দিতেই বিএনপির ভেতরে একাধিক বলয় সৃষ্টি করেছেন হামিদুল খান৷ নিজের দলীয় নেতাকর্মীদের বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের কাছে তার তথ্য পাচার করার ফলেই এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা ও মামলার শিকার হতে হচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের প্রভাবে অনুগামীদের নিয়ে কর্মসূচি পালনের নামে ফটোসেশন করে কেন্দ্রে নিজেকে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন তিনি। 

তারা আরও জানান, মূলত আওয়ামী লীগ কাঞ্চন এলাকায় হামিদুল খানের মাধ্যমে বিএনপির বি টিম তৈরি করে পুরো পৌরসভায় বিএনপির রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। রাজপথে সক্রিয় ও দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের হামলা, মামলার মাধ্যমে সরিয়ে দিয়ে হামিদুল খানকে দিয়ে কাঞ্চন এলাকায় বিএনপির রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। 

এদিকে তার এই আয়োজনে বিএনপির আরো কয়েকজন নেতা যোগ দেন। তারাও পরোক্ষভাবে আতাঁতের রাজনীতিতে যুক্ত বলে জানান নেতাকর্মীরা।