রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬

|

শ্রাবণ ১৭ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

অপকর্ম করলে কথা বলবই, কারও পরোয়া করি না: আব্দুল্লাহ আল আমিন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১২:৫২, ২ আগস্ট ২০২৬

অপকর্ম করলে কথা বলবই, কারও পরোয়া করি না: আব্দুল্লাহ আল আমিন

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, ঝুঁট দখল ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর গায়ে লাগছে। তবে কোনো অন্যায় বা অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতে তিনি দ্বিধা করবেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন।

রোববার (২ আগষ্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে একথা বলেন তিনি। 

আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বললাম, কিন্তু গায়ে লাগে বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাদের। অথচ ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জে বাস-টেম্পুস্ট্যান্ড ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি কারা করেছে, সেটা সবাই জানে।

তিনি বলেন, ফতুল্লায় গার্মেন্টস পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কৃত রিয়াদ চৌধুরীকে বিএনপির নেতারা নেতা হিসেবে মানতে লজ্জা পান না। কিন্তু এসব বিষয় সামনে আনলেই তাদের আপত্তি তৈরি হয়।

ঝুঁট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে সংসদ সদস্য বলেন, ঝুঁট ব্যবসার দখল নিয়ে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে মাদ্রাসার ১০ বছরের নিরীহ একটি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সেটিতে তাদের খারাপ লাগে না। কিন্তু ঝুঁট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বললে খারাপ লাগে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঝুঁট ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসের ঘটনায় জেল খাটা ছাত্রদল নেতারাও এনসিপির বিরুদ্ধে কথা বলছেন। একইভাবে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাতদের বিরুদ্ধে কথা বললেও তাদের আপত্তি তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সময় নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, নৌকা মার্কার অবৈধ নির্বাচনের চেয়ারম্যানদের বিষয়ে বললাম, কিন্তু গায়ে লাগে বিএনপি নেতাদের। অথচ আওয়ামী লীগের মার্কা নৌকার চেয়ারম্যানকে নেতা মানতে তাদের লজ্জা করে না।

নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা ও বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। আব্দুল্লাহ আল আমিনের দাবি, নারায়ণগঞ্জের নিরীহ মানুষ ও শিশুদের শহীদ হওয়ার পরও হাতেম শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং গণআন্দোলনকে ‘তাণ্ডব’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাকে ‘ফ্যাসিস্ট দোসর’ বললেও বিএনপি নেতাদের আপত্তি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তোলারাম কলেজের ছাত্রদলের সভাপতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই নেতা হাতেমকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে কলেজ থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। পরে বিএনপির নেতারা তাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছেন বলেও দাবি করেন আব্দুল্লাহ আল আমিন।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের একজন জুলাই যোদ্ধাকে ফ্যাসিস্ট দোসরের কাছে মাফ চাইতে বাধ্য করাতেও বিন্দুমাত্র লজ্জা করেনি। লজ্জা লাগে কেউ সেটা নিয়ে কথা বললে।

চাঁদাবাজির অভিযোগে বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, চাঁদাবাজির কারণে এমপির ছেলে বহিষ্কার হয়, আটক হয়। যুবদলের সেক্রেটারি শোকজ হয়। এসব তাদের লজ্জা লাগে না। লজ্জা লাগে কেউ সেটা বলতে গেলে।

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজ কাউকে চাঁদাবাজ বললে, গুন্ডা-সন্ত্রাসী কাউকে সন্ত্রাসী বললে, মাদক ব্যবসায়ী কাউকে মাদক ব্যবসায়ী বললে, আওয়ামী লীগের কাউকে আওয়ামী লীগ বললে কিংবা ফ্যাসিস্ট দোসর কাউকে ফ্যাসিস্ট দোসর বললে যদি আপনাদের লজ্জা লাগে, গায়ে লাগে, উস্কানি মনে হয়—তাহলে নিজেদের সংশোধন করেন। গুন্ডামি করবেন না।

নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিস্টদের বাইরে কারও সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। যারা বিগত বছরগুলোতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মাঠে ছিলেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, অপকর্ম করলে আমরা কথা বলবই। মানুষ পরিবর্তন চায় বলেই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। মানুষ জালেম অথবা মজলুম—কারও হাতেই আর জুলুমের শিকার হতে চায় না।

নিজের অতীত রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে তার বিরুদ্ধে ১৭টি রাজনৈতিক মামলা ছিল। তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং এতে তার ডান হাত ভেঙে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।

আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ১৫ দিন চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। জেলও খেটেছি বর্তমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ভাই এবং ডিআইটি পীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল সাহেবের সঙ্গে।

তিনি আরও বলেন, তবুও একদিনের জন্যও হাসিনাকে পরোয়া করিনি। ওসমানদের চাটাচাটি করিনি।

গণঅভ্যুত্থানের পর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে তিনি কোনো রাজনৈতিক চাপকে গুরুত্ব দেবেন না উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, এখন গণঅভ্যুত্থানের পরে এসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে দ্বিধা করব, এটা কেউ ভাবলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

তিনি দাবি করেন, তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ঝুঁট দখল কিংবা মাদক ব্যবসার টাকায় রাজনীতি করেন না। কোনো অন্যায় কাজ থেকে সুবিধা না নেওয়ায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে কারও পরোয়া করার প্রয়োজন হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে আমাদের কারও পরোয়া করতে হয় না। কারণ আমরা কোনো অন্যায় কাজ থেকে সুবিধা নেই না, আলহামদুলিল্লাহ।