মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

|

মাঘ ১৩ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, মান্নানের প্রতিদ্বন্দ্বী গিয়াসউদ্দিন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:৪৫, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, মান্নানের প্রতিদ্বন্দ্বী গিয়াসউদ্দিন

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। নির্বাচনী মাঠে এখন পর্যন্ত যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে এই আসনে মূল লড়াইটি জমে উঠছে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থীর মধ্যেই। শেষ মুহূর্তে আসনটি জোট শরিককে ছেড়ে দেওয়ায় জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১০ দলীয় জোট এই আসনে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়া আজহারুল ইসলাম মান্নান সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব রয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করছেন। আওয়ামী লীগের সময় তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা তাকে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও জনসংযোগের বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ দুই এলাকাতেই তার নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মাঠ পর্যায়ে তার কর্মীসমর্থকদের তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো।

তবে মান্নানের বিজয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে তিনি এবার নির্বাচন করছেন। ৫ আগস্ট আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন গিয়াসউদ্দিন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত হলে তিনি এই আসন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে রাজপথে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন গিয়াসউদ্দিন। বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচিতে শামীম ওসমানের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে গিয়ে তিনি দলীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন। যদিও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়, তবুও এলাকায় তার নিজস্ব অনুসারী ও সমর্থকগোষ্ঠী এখনো সক্রিয় রয়েছে। এসব কারণে অনেকেই মনে করছেন, মান্নান ও গিয়াসউদ্দিনের মধ্যে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে।

এই আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচনে নামলেও বয়স ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে আগের মতো মাঠে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনী প্রচারণায় তার উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে কম, ফলে ভোটের সমীকরণে তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন—এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে শুরুতে মাঠে ছিলেন ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। তবে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে গত ২৫ জানুয়ারি দলীয় নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এখন মাঠে আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শিবলী। স্থানীয়ভাবে তার পরিচিতি কম হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকায় তারা কতটা সক্রিয়ভাবে শিবলীর পক্ষে কাজ করবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় এই আসনে ভোটের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন মান্নান ও গিয়াসউদ্দিন। অনেক ভোটারই মনে করছেন, দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় প্রভাবই এখানে ফল নির্ধারণ করে ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দুই প্রার্থীর যে কেউই বিজয়ী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি এবার একটি উত্তেজনাপূর্ণ ও অনিশ্চিত নির্বাচনী লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে শেষ মুহূর্তের সমীকরণই ঠিক করে দেবে চূড়ান্ত ফলাফল।