সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

|

মাঘ ১২ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

অঞ্জন দাসের নির্বাচনী ইশতেহার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২০:১২, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

অঞ্জন দাসের নির্বাচনী ইশতেহার

গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও মৌলিক অধিকারগুলো সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ-০৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি তাঁর ‘মাথাল’ প্রতীকের ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করেন।

ইশতেহার পাঠকালে অঞ্জন দাস বলেন, “এলাকায় একদিকে লুটপাট, দখলবাজি আর ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে; অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনে কেবল অনিশ্চয়তা আর বঞ্চনা। এই বৈষম্যমূলক বন্দোবস্ত ভেঙে আমরা একটি মানবিক ও ন্যায়ের জনপদ গড়তে চাই। আমাদের ইশতেহার কোনো সস্তা প্রতিশ্রুতি নয়, এটি শোষিত মানুষের বাঁচার দাবি।”

অঞ্জন দাসের ঘোষিত ইশতেহারে এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে:

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁওয়ের প্রতিটি ওয়ার্ডে মানসম্মত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিশ্চিত করা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টা সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ঝরে পড়া রোধে বিশেষ সহায়তার কথা উল্লেখ রয়েছে ইশতেহারে।

মাদক ও কিশোরগ্যাং নির্মূল: মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে কিশোরগ্যাং প্রতিরোধে কেবল পুলিশি ব্যবস্থা নয়, বরং কাউন্সিলিং, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরির পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ ও নদী রক্ষা: ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, শীতলক্ষ্যা ও স্থানীয় খালগুলো দখল-দূষণমুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন অঞ্জন দাস।

শ্রমিক ও কৃষি অধিকার: শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি কৃষিজমি দখল বন্ধ এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাও রয়েছে ১২ দফায়।

জ্বালানি ও যোগাযোগ: ঘরে ঘরে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যানজট ও দুর্ঘটনা মুক্ত আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

অঞ্জন দাস তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “ভোট মানে কেবল ক্ষমতার বদল নয়, ভোট মানে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। দখলবাজি আর চাঁদাবাজির অবসান ঘটিয়ে থানাকে আমরা জনগণের সত্যিকারের নিরাপত্তাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবো।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী, গার্মেন্ট শ্রমিক প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে এই ইশতেহারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। অঞ্জন দাস লুটেরা ব্যবস্থার বদল ঘটিয়ে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আগামী নির্বাচনে ‘মাথাল’ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।