ফাইল ছবি
দেশের অন্যতম ভিআইপি আসন হিসেবে বিবেচনা লরা হয় নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-আলীরটেক, গোগনগর) আসন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। জলাবদ্ধতা, যানজট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অন্যতম সমস্যা যানজট। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এই এলাকায় মানুষের আনাগোনা বেশি। শিল্প অঞ্চল বিসিকও এই ফতুল্লায় অবস্থিত। প্রতিদিন কয়েক লক্ষ শ্রমিক এই এলাকায় আসা যাওয়া করে। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এ এলাকায় বর্তমানে যানজট বিশাল একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের জন্য সড়কগুলোর বেহাল দশা তৈরি হয়েছে।
ফতুল্লার অন্যতম সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিশেষত লালপুর ও ডিএনডি এলাকায় বর্ষার মৌসুমে কয়েক লক্ষ মানুষ প্রতিবছরই নাজেহাল অবস্থায় পড়েন। মানবেতর দিন যাপন করতে হয় তাদের।
এছাড়াও ফতুল্লায় শিল্পাঞ্চলে সন্ত্রাস, অপরিকল্পিত শিল্প প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানার বর্জ্য অব্যাবস্থাপনার ফলে নদী দূষণ বড় কয়েকটি সমস্যার মধ্যে অন্যতম। আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীর কাছে এটাই প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারদের।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ১২ জন প্রার্থী। এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসাইন কাসেমী স্বতন্ত্র হিসেবে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম, রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, এনসিপির আব্দুল্লাহ আল আমিন, বাসদের সেলিম মাহমুদ, সিপিবির ইকবাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার এবং খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, গণ অধিকার পরিষদের মোঃ আরিফ ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টির ছালাউদ্দিন খোকা, জাসদের সুলাইমান দেওয়ান মাঠে আছেন।
বিএনপির জোট সমর্থিত প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, আমরা নির্বাচিত হতে পারলে ফতুল্লাকে ঢেলে সাজানে হবে। লালপুরবাসীর জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করবো। পাশাপাশি ফতুল্লাকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত করতে আমরা কাজ করবো।
তিনি আরও বলেন, মানুষের সুখে দুঃখে আমরা তাদের পাশে থাকবো। মানুষকে আমরা শান্তি দিতে চাই। মানুষ যেন শান্তিতে থাকতে পারে, চলাফেরা করতে পারে সেলক্ষ্যে আমরা কাজ করবো। যানজট নিরসনেও আমরা কাজ করবো।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, ফতুল্লাবাসীর সমস্যা সমাধানের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। আমি মনে করি আমার সেই পরিকল্পনা রয়েছে। ফতুল্লাকে জলাবদ্ধতা ও যানজটমুক্ত করতে আমি কাজ করবো।
তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে কেউ চাঁদাবাজি দখলবাজির অভিযোগ করতে পারবে না। আমি নির্বাচিত হলে ফতুল্লায় কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে পারবে না। মানুষ শান্তিতে থাকবে, ব্যাবসায়ীরা শান্তিতে ব্যাবসা করবে।
রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি ফতুল্লার বাসিন্দা। ফতুল্লার মাটি ও মানুষের সাথে আমার সম্পর্ক। আমি ফতুল্লাবাসীর কষ্ট বুঝি। তাদের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে আমি কাজ করবো।
তিনি আরও বলেন, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করবো। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে যেউ যেন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি না করতে পারি সেটা নিশ্চিত করতে কাজ করবো।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মোট ভোটার ৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩২৫ জন৷ পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৭০ হাজার ১৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩০৪ জন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৭টি এবং ভোট কক্ষ ১০১৪টি। এ আসনে কোন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই।

