ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে ভাঙ্গনের প্রভাব ভোটের অঙ্কে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনেই এককভাবে প্রার্থী দেওয়ায় জামায়াতের ১০ দলীয় জোটের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মো. ইমদাদুল্লাহ। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে দলটির প্রার্থী মুফতি হাবিবউল্লাহ হাবিব। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুই আসনেই তারা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন এবং স্থানীয়ভাবে তাদের অবস্থান আগের চেয়ে শক্ত হয়েছে। ফলে ইসলামী ভোটারদের একটি অংশ তাদের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লাও প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। তবে ইসলামী আন্দোলন আলাদা ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এই দুই আসনে জামায়াতের ভোট কমে যেতে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গোলাম মসীহ্ শুরু থেকেই প্রচারে সরব। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে মুফতি ইসমাইল সিরাজী এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে দলটির পরিচিত ও অভিজ্ঞ প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ মাঠে রয়েছেন।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি। মুফতি মাসুম বিল্লাহ এর আগে একাধিকবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, নিয়মিত গণসংযোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে সদর ও বন্দর এলাকায় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। সে কারণেই এ আসনে ভালো ফলের ব্যাপারে দলটি বেশ আত্মবিশ্বাসী।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ড. মোঃ ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। তবে জোটের নতুন সমীকরণ ও ইসলামী আন্দোলনের শক্ত উপস্থিতির কারণে এখানেও ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে দিয়েছে এনসিপির প্রার্থী আল আমিনের জন্য। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুনের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ফলে এই তিন আসনেও জামায়াত ও জোট সমর্থিত প্রার্থীদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে থাকায় ইসলামপন্থি ভোটারদের ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সামগ্রিকভাবে নারায়ণগঞ্জে ইসলামী রাজনীতির এই বিভাজন জামায়াতে ইসলামীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

