সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

|

আশ্বিন ২৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

না.গঞ্জে একমাত্র মর্গের ফ্রিজার নষ্ট, ভোগান্তিতে স্বজনেরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১২:১৩, ১১ অক্টোবর ২০২৬

না.গঞ্জে একমাত্র মর্গের ফ্রিজার নষ্ট, ভোগান্তিতে স্বজনেরা

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) ভেতরে অবস্থিত জেলার একমাত্র মর্গে মরদেহ সংরক্ষণের তিনটি ফ্রিজারই ছয় মাসের বেশি সময় অচল। ফলে ময়নাতদন্তের আগে মরদেহ সংরক্ষণে বিপাকে পড়ছেন স্বজনেরা। বাধ্য হয়ে বেশি খরচে ভাড়া করতে হচ্ছে লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স। শুধু ফ্রিজার নয়, মর্গের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের এসিও নষ্টের অভিযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মর্গের প্রবেশপথে পানি জমে থাকার দুর্ভোগ।

হাসপাতালের ভেতরে অবস্থিত এই মর্গে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৩২টি মরদেহ এখানে আসে।

সম্প্রতি চাষাঢ়ায় মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন মো. বিল্লাল (৩২) । মর্গের ফ্রিজার অচল থাকায় মরদেহ লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রাখতে হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, চার দিনে এ জন্য তাদের প্রায় ৪৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

শুভর ভাই মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের লাশটাও ঠিকমতো রাখতে পারেনি। মর্গের মধ্যে পড়ে পচে যাচ্ছিল। পরে আমরা নিজেরাই ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রাখার ব্যবস্থা করি। পুলিশকে অনুরোধ করে দ্রুত ঢাকার হিমাগারে রাখা হয়।’

মর্গের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্ট্রিমকে বলেন, যেসব পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য আছে, তারা লাশবাহী গাড়ি ভাড়া করে মরদেহ রাখেন। আর নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পচন থেকে রক্ষার জন্য বাইরে থেকে বরফ এনে ঢেকে রাখেন।

তবে মর্গের দায়িত্বে থাকা ডোম দর্পন দাস বলেন, এখানে অনেক মরদেহ আসলেও বেশির ভাগ মরদেহ এক-দুই দিনের বেশি রাখতে হয় না। অনেক সময় অর্ধগলিত মরদেহ এলেও সেগুলো মর্গের ভেতরে রাখা হয়। ভালো অবস্থায় থাকা মরদেহ সংরক্ষণে বাইরে থেকে লাশবাহি ফ্রিজার ভ্যানে রাখতে হয়। তবে তার দাবি, এমন পরিস্থিতি খুব একটা হয় না।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মর্গে প্রবেশের পথেই জমে আছে ময়লা পানি। ভেতরে মরদেহ সংরক্ষণের ফ্রিজার অচল অবস্থায় থাকার পাশাপাশি লাশ কাটার ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রটিও (এসি) নষ্ট।

স্থানীয় বাসিন্দা দর্পন দাস বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই মর্গের সামনে ময়লা পানি জমে যায়। অথচ এর পাশেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন। মর্গের সামনের ড্রেনেজব্যবস্থা ঠিক করার দাবি জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) নাজমুল হোসেন বলেন, হাসপাতালের মর্গে মরদেহ সংরক্ষণের ফ্রিজারটি প্রায় ছয় মাস ধরে নষ্ট। এটি মেরামতের জন্য হাসপাতাল থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দিনের বেলায় হাসপাতালে আসা মরদেহ ময়নাতদন্ত করে ওইদিনেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। রাতে আসা মরদেহের ময়নাতদন্ত সেদিন করা সম্ভব না হলে পরদিন সকালে করার চেষ্টা করা হয়। এভাবেই আপাতত বিষয়টি ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।

ফ্রিজার নষ্ট থাকায় ময়নাতদন্তে সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে আরএমও বলেন, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মরদেহ কত ঘণ্টা পর পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেটি সব সময় বড় বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর পাঁচ বা দশ দিন পরও মরদেহ পাওয়া যায়। এরপরও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আসা মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চিকিৎসকদের রোস্টার করা আছে। সাধারণত যেদিন মরদেহ আসে, সেদিনই ময়নাতদন্ত করা হয়। তবে সন্ধ্যার পর মরদেহ এলে সেটি পরদিন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেওয়া হবে।’