ফাইল ছবি
বিএনপি থেকে বহিষ্কারের প্রায় চার বছর পরও দলীয় রাজনীতিতে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। সম্প্রতি এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্যে দলীয় রাজনীতিতে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর বাজারে মুসলিম একাডেমির আয়োজনে সমাজ কল্যাণ প্রভাতী সংসদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হারুণ অর রশিদ বাবুল ও সামছুল হকসহ এলাকার মৃত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মুসলিম একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ড. তৈমূর আলম খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তৈমূর আলম খন্দকার আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, মানুষ কখন পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় তা কেউ জানে না। জীবনে কোনো ভুল করে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘কখন মারা যাই, কখন আল্লাহ দুনিয়া থেকে নিয়ে যায়—যদি কোনো ভুল করে থাকি ক্ষমা করে দিবেন। ভুল তো অবশ্যই আছে; আমি ক্ষমা চাই, ক্ষমা করে দিবেন।’
তার এমন বক্তব্যকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির বাইরে থাকা তৈমূর আলম খন্দকার দলীয় রাজনীতিতে ফেরার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে তাকে পুনর্বহালের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
২০২২ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তৈমূর আলম খন্দকার। ওই নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালকেও বহিষ্কার করা হয়। তিনি ওই নির্বাচনে তৈমূর আলম খন্দকারের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলে ফেরেন এটিএম কামাল।
সর্বশেষ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সরকারের সময়ের নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি দল খুলে তার মহাসচিব হিসেবে রূপগঞ্জ থেকে নির্বাচন করেন তৈমূর। এরপর দলে ফেরার সুযোগ একরকম শেষ হয় তার।
২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে পরাজিত হন তৈমূর আলম খন্দকার। ওই নির্বাচনে আইভী ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর আলম খন্দকার পান ৯২ হাজার ৫৬২ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৬৬ হাজার ৫৩৫।
দল থেকে বহিষ্কারের পরও তৈমূর আলম খন্দকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। মাসদাইর এলাকার সাম্প্রতিক দোয়া মাহফিলেও তিনি স্থানীয় সমাজ উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রম ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পুরোনো কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন।
তৈমূর আলম খন্দকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ব্যক্তিগত অনুশোচনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি দলীয় রাজনীতিতে ফিরে আসার প্রত্যাশার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে বিএনপিতে তার প্রত্যাবর্তন নির্ভর করছে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক বিবেচনার ওপর। আপাতত ক্ষমা চেয়ে সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষাতেই রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের এই আলোচিত নেতা।

