শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

আশ্বিন ২ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জের বাজারে সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি, কমেছে মুরগি-ইলিশের দাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:৪১, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের বাজারে সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি, কমেছে মুরগি-ইলিশের দাম

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের কাঁচাবাজারগুলোতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহে টান থাকায় কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে সবজির বাজারের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মুরগি ও ইলিশের বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মুরগির দাম কমেছে। পাশাপাশি সরবরাহ বাড়ায় কমেছে ইলিশের দামও।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিগুবাবুর বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে যে সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছিল, সেগুলোর বেশিরভাগের দামই এখন বেড়েছে। বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১৬০ টাকা এবং করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। কাঁচামরিচের দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় উঠেছে।

পটল, ঢেঁড়স, কাকরোল ও ঝিঙা আকার ও মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা, আলু ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর মুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গাজরের দাম রয়েছে ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি।

বাজারে এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকায়। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, চালকুমড়া আকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শীতকালীন সবজি হিসেবে বাজারে আসতে শুরু করেছে শিম ও মুলা। শিম কেজি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা এবং মুলা ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং ছোট আকারের বাঁধাকপি ৮০ টাকা পিস দরে পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির বাজারে যখন বাড়তি দামের চাপ, তখন কিছুটা স্বস্তি এসেছে মুরগির বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের মুরগির দাম কমেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩০০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড ২৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগির দাম রয়েছে ৩৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা কমে কেজি ১৭০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫০ টাকা কমে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারে লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সরবরাহ বাড়ায় ইলিশের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম প্রত্যাশার তুলনায় কমেনি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, এখন ইলিশের মৌসুম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ আরও বাড়ার কথা। সে অনুযায়ী দাম কমার কথা থাকলেও বাজারে তার পুরো প্রভাব পড়েনি।

নারায়ণগঞ্জের এক ক্রেতা বলেন, ছোট আকারের ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় দাম খুব একটা কমেনি। বাজারে মাছের সরবরাহ দেখা গেলেও চড়া দামেই ইলিশ কিনতে হচ্ছে।

বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, বাজারে ইলিশের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। নদী ও সাগর থেকে মাছ আসার পরিমাণ আরও বাড়লে আগামী সপ্তাহে ইলিশের দাম কিছুটা কমতে পারে।

অন্যান্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ডিমের বাজারে লাল ডিমের এক ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা ডজন, দেশি মুরগির ডিম চারটি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম চারটি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ক্রেতাদের অভিযোগ, একদিকে সবজির দাম বাড়ছে, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দামও কমছে না। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের সংসারের বাজার সামলাতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ ও বাজারে পণ্যের আসার ওপর দাম ওঠানামা করছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে কয়েকটি পণ্যের দাম কমে আসতে পারে।