ফাইল ছবি
কনের বাড়িতে বিয়ের আমেজ, আসার কথা ছিল বরপক্ষের স্বজনদের। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্ত মুহূর্তেই পরিণত হলো মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ১৩ জন যাত্রীসহ একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এতে রায়েসা বেগম (৪০) নামের এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও হাসপাতালে ১ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া একই পরিবারের শিশুসহ ৪ সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিরা সবাই কুমিল্লা জেলার হোমনা থানা এলাকার বাসিন্দা।
নিখোঁজ ৪ জন হলেন,হেলাল উদ্দিন (৫৫), সজীব (২৪), সামিয়া (১৭) এবং পাঁচ বছরের শিশু সামিন (৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার হোমনা এলাকা থেকে ১৪ জন স্বজন ট্রলারযোগে সোনারগাঁয়ের হারিয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার (১৯) ও শিশিরের বিয়েতে যোগ দিতে রওনা হন। সঙ্গে ছিল বিয়ের বাজার এবং উপহার হিসেবে দুটি গরু ও একটি খাসি। ট্রলারটি সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়ায় প্রচণ্ড ঝড়ের মুখে পড়ে সলিল সমাধি ঘটে।
এ সময় কাছেই থাকা আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে ৯ জনকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করে। পরে পানি থেকে রায়েসা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত জানান, হাসপাতালে এক নারীকে আনা হয়েছিল, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়রা একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করলেও চারজন এখনো তলিয়ে আছেন। রাত হয়ে যাওয়ায় এবং নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় আপাতত তল্লাশি স্থগিত রাখা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।

