রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬

|

ফাল্গুন ২৩ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জে বোতল ও খোলা তেলের দাম বেড়েছে, সরবরাহেও ঘাটতি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৩:৫৯, ৮ মার্চ ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে বোতল ও খোলা তেলের দাম বেড়েছে, সরবরাহেও ঘাটতি

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্রেতা বলছেন, বোতলজাত তেলে বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, কোম্পানি থেকে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

বিক্রেতারা জানান, দাম আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে রাখছেন। ফলে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে কোম্পানি থেকে সরবরাহ কম থাকায় অনেক দোকানেই বোতলজাত তেলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এছাড়া আগে ডিলারদের যে কমিশন দেওয়া হতো, সেটিও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন দোকানি।

শহরের চাষাঢ়া, মণ্ডলপাড়া, দেওভোগ ও নিতাইগঞ্জ এলাকার কয়েকটি মুদি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, ১ ও ২ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল চাহিদার তুলনায় কম রয়েছে। পরিচিত কয়েকটি ব্র্যান্ডের অল্প কিছু বোতল পাওয়া গেলেও অনেক দোকানেই তেল শেষ হয়ে গেছে। অপরিচিত কিছু ব্র্যান্ডও বাজারে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

নিতাইগঞ্জ এলাকায় তেল কিনতে এসে মো. রফিক নামের এক ক্রেতা বলেন, আমি এক লিটার বোতল তেল কিনতে বের হয়েছি। দুই–তিনটি দোকানে খুঁজেও পাইনি। শেষ পর্যন্ত খোলা তেল কিনতে হচ্ছে। খোলা তেলের দামও আগের চেয়ে বেড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫ লিটারের একটি বোতল সয়াবিন তেলের গায়ের দাম (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা। আগে খুচরা বিক্রেতারা ডিলারের কাছ থেকে এ তেল প্রায় ৯৩০ টাকায় কিনে ৯৪০ টাকায় বিক্রি করতেন। এতে তাদের প্রায় ১০ টাকা লাভ থাকত। তবে গত কয়েক দিনে ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়ে প্রায় ৯৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক দোকানেই ৯৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে খুচরা বিক্রেতাদের লাভ কমেছে এবং ক্রেতাদেরও আগের তুলনায় কিছুটা বেশি দাম গুনতে হচ্ছে।

অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন মহল্লার দোকানে খোলা সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আগে যা ১৯৫ থেকে ১৯৮ টাকার মধ্যে ছিল।

স্থানীয় বিক্রেতারা জানান, প্রায় এক মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। একদিকে তেল কোম্পানিগুলো কম সরবরাহ দিচ্ছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আতঙ্কে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন। সব মিলিয়ে বাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।