ফাইল ছবি
পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দিনেই নারায়ণগঞ্জ জেলার নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের চাপ দেখা গেছে। সপ্তাহ ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন বাজারে বেগুন, শসা, লেবু, কাঁচামরিচ, ছোলা, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, খেজুর, ডাল ও বেসনসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে আলু আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে। ভোক্তারা বলছেন, প্রতি বছর রমজান এলেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ শহরের দিগুবাবুর বাজার ও আশপাশের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে নিয়মিত বাজার করতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শওকত হোসেন শাওন বলেন, “রমজান এলেই সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। দু’দিন আগেও দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন কেজিতে ১৬০ টাকা চাচ্ছে। কাঁচামরিচ ২০০ টাকা কেজি—এটা সাধারণ মানুষের জন্য খুব কষ্টকর।”
বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজি কেজিতে গড়ে ১০ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ৬০-৭০ টাকা, দেশি গাজর ৫০-৬০ টাকা, মুলা ৪০-৫০ টাকা, শালগম ৭০ টাকা, বড় ফুলকপি ৪০-৫০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা এবং লাউ ৬০-৮০ টাকা পিসে বিক্রি হচ্ছে।
গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যেও দাম বেড়েছে। বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, করলা কেজিতে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, ঢেঁড়স ১৪০ টাকা, কচুর লতি ১০০-১২০ টাকা ও ধুন্দল ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে।
রমজানকে কেন্দ্র করে লেবুর দামে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে। এক হালি লেবু ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ধনেপাতা ৬০ থেকে ১৫০ টাকা, পুদিনা পাতা ২০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা এবং চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিসে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ ও মাংসের বাজারেও দাম চড়া। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১০০০ টাকা, রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৭০-২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০-৮০০ টাকা এবং পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৭৭০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজারে সামান্য স্বস্তি দেখা গেছে। এক ডজন লাল ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগির দামে ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। ব্রয়লার ১৮৫ টাকা, সোনালি কক ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, রমজান এলেই এক শ্রেণির ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেন। বাজার তদারকি জোরদার না হলে সাধারণ মানুষের জন্য রোজা রাখা ও সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

