ফাইল ছবি
র্যাব পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি বেল্লাল খান তুহিন (৩৮) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১ এর কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার মোঃ নাঈম উল হক।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি তুহিম (৩৮) পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার মুখলেছ খানের ছেলে। এর আগে রোববার রাতে র্যাব-১১ এবং র্যাব-৮ এর যৌথ অভিযানে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা থানাধীন নলখোলা এলাকা থেকে মোঃ বেল্লাল খান তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১১ এর কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার মোঃ নাঈম উল হক জানান, ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল এলাকায়। নারায়ণগঞ্জ শহরের কালিরবাজার স্বর্ণপট্টির হাজী জুয়েলারীর মালিক মনিরুল ইসলাম তার বড় ভাই মোজাম্মেল হক হুমায়ুন (৫২) এবং ভাগিনা ফজলে রাব্বি (২৮) কে স্বর্ণ বিক্রির জন্য ঢাকার বায়তুল মোকাররম মার্কেটের স্বর্ণ শিল্পালয়ে পাঠান। সেখানে স্বর্ণ বিক্রি শেষে তারা নগদ ৮০ লাখ টাকা নিয়ে গুলিস্তান থেকে শ্রাবণ পরিবহনের একটি বাসে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে বাসটি মাতুয়াইল দা ওয়ান রেস্টুরেন্টের সামনে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস চলন্ত বাসটির পথরোধ করে। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে দুই ব্যবসায়ীকে টাকার ব্যাগসহ বাস থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে তাদের মারধর করে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ সেতুর নিচে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় দুই ব্যবসায়ী উদ্ধার হন এবং বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র্যাব-১১ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া থানার বড়শৌলা এলাকার বাসিন্দা।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া নগদ ২ লাখ ৩৭ হাজার ৯১০ টাকা, একটি আইফোন ১৬, একটি ভিভো স্মার্টফোন, একটি সিম্ফোনি বাটন মোবাইল এবং একটি সোনার আংটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেল্লাল খান তুহিন ডাকাতির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
এ টনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান আছে।

