শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

|

ফাল্গুন ২৯ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি‍!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৪:১০, ১৪ মার্চ ২০২৬

৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি‍!

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপোতে যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগে পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি দল তদন্তে নেমেছে। 

আজ শনিবার সকাল ৭টার দিকে তারা কুর্মিটোলা ডিপোতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাইসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। 

তদন্ত দলে রয়েছেন পদ্মা অয়েলের উপ মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্ল্যায়েন্স মো. শফিউল আজম এসিএ, ব্যবস্থাপক (পরিচালন) পেয়ার আহাম্মদ এবং কর্মকর্তা (ইঞ্জি.) কে এম আবদুর রহিম।

এর আগে ১৩ মার্চ সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্টে ‘অস্থিরতার মধ্যে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি, নেপথ্যে পুরনো সিন্ডিকেট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরদিন (শনিবার) সকালে পদ্মা অয়েলের তিন সদস্যের একটি টিম ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে কুর্মিটোলা ডিপোতে যায়। 

এসময় তদন্ত দলের সদস্যরা ডিপোর বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি তেলবাহী গাড়ির চলাচল সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে দেখতে বেসামরিক বিমান চলাচল কতৃপক্ষের সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই-বাছাই করা হয়। পাশাপাশি ডিপোতে থাকা তেলও পরিমাপ করে দেখেন তারা। এ সময় ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথাও বলেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত দল বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ছেড়ে আসা জেট ফুয়েলবাহী গাড়িগুলোর গতিপথ ও ডিপোতে প্রবেশ সংক্রান্ত তথ্য। কাগজে-কলমে গাড়িগুলো কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে দেখানো হলেও বাস্তবে তা পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পদ্মা অয়েলের উপ মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্ল্যায়েন্স মো. শফিউল আজম এসিএ বলেন, নিউজের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল থেকে তদন্ত শুরু হয়। এখনো চলমান আছে। আমরা সবকিছু মিলিয়ে দেখছি।

পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েল সাধারণত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে অপেক্ষাকৃত কমমূল্য হওয়ায় এটি অকটেনের সঙ্গে মিশ্রিত করে দুর্বৃত্তরা খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার (১১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে জেড ফুয়েল নিয়ে ছেড়ে যাওয়া অন্তত ৪টি গাড়ি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি। গাড়ি নম্বর গুলো হলো, ৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ ও ৪১-০৬৯৮। তবে কাগজে-কলমে গাড়িগুলো কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে উল্লেখ করা হয়। বাস্তবে গাড়িগুলোতে থাকা তেল অন্যত্র পাচার করা হয়। 

পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক (এভিয়েশন) মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে একটি পুরনো সিন্ডিকেট ফের একই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সাইদুলের বিরুদ্ধে তেল চুরির অভিযোগ পুরনো। চাকরিজীবনের বেশিরভাগই সময় ডিপোতে কর্মরত এই কর্মকর্তাকে থামাতে গত বছরের ২০ জানুয়ারি সতর্ক করে চিঠি দেয় পদ্মা অয়েল কতৃপক্ষ। 

এই চিঠির পর তাতে দমে যাননি সাইদুল হক। সবশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিকভাবে চুরির অভিযোগে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটির সচিব শাহিনা সুলতানার সই করা চিঠিতে কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কিন্তু যথাসময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। সবশেষ তারা তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৮ মার্চ পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করে। ওই সময় তেল চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে কুর্মিটোলা ডিপোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।