ফাইল ছবি
রূপগঞ্জ উপজেলার শিমুলিয়া এলাকার একটি অবৈধ গরুর হাট প্রশাসন দুই বার অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করলেও তা কাজে আসেনি। একটি প্রভাবশালী মহল দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আবারও হাটটি পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শিমুলিয়া গরুর হাটের কারণে পার্শ্ববর্তী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত এক বছর আগে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো ও অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই গরুর হাটটি বন্ধ করে দেয়। তবে এরপর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হাটটি পুনরায় বসানোর চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয় বিএনপিনেতা জসিম মিয়া এই অবৈধ হাটটি পুরোদমে পরিচালনা করে আসছেন। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপিনেতা জসিম মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাট বসানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমার ক্যাশ টাকা খাটিয়ে এলাকার স্বার্থে হাটটি আনা হয়েছে। এবার হাটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘শিমুলিয়া ব্রাহ্মণখালী গরুর হাট’। এই হাটের আয়ের টাকা এলাকার দলীয় ভাই-ব্রাদারদের দেওয়া হয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মসজিদ-মাদরাসার উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হয়।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জানান, গরুর হাটটির কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। অনুমোদন না থাকায় এর আগেও দুইবার অভিযান চালিয়ে এটি উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে হাটের জায়গাটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) হওয়ায় সরকারিভাবে এটিকে ইজারা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ইউএনও আরও বলেন, আমাদের কিছু সক্ষমতার অভাব রয়েছে। আমরা দুইবার উচ্ছেদ করার পরেও আবারও হাটটি চালু করা হয়েছে। কারণ, হাটটি বন্ধ করে দেওয়ার পর এলাকাবাসী উপজেলা কার্যালয়ের সামনে এসে হাটটি পুনরায় চালু করার দাবিতে মানববন্ধন করেছিল।

