ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হোসিয়ারি ব্যবসায়ী হারুন খালাসী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে লুট হওয়া নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও ভিকটিমের ব্যবহৃত তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন।
শুক্রবার (২৮ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার নাটোপাড়া এলাকার মেছের আলীর মেয়ে মোসাঃ মীম (২০) এবং নীলফামারী সদর থানার রামকলা এলাকার মৃত দেলোয়ার মিস্ত্রির ছেলে মোঃ রানা হোসেন (২৪)। বর্তমানে তারা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, ফতুল্লা খান সাহেব ওসমানী স্টেডিয়াম সংলগ্ন বটগাছ তলা এলাকার একটি হোসিয়ারি কারখানায় ব্যবসা পরিচালনা করতেন মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানার নগড় জোয়ার এলাকার মৃত কাদেরের ছেলে হারুন খালাসী (৪৬)। গত ২৬ মে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য কারখানায় নগদ টাকা রাখেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোন থেকে সন্দেহজনক বার্তা পেয়ে কারখানায় গিয়ে দরজা তালাবদ্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে হারুন খালাসীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেফতারকৃত মীম ও রানা নিহতের কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তদন্তে উঠে আসে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ক্ষোভের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা হারুন খালাসীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর কাপড় বাঁধার গার্ডার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে শ্রমিকদের বেতনের ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে কারখানার দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সবসময় তৎপর রয়েছে। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

