বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

|

মাঘ ১৪ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী, ফতুল্লায় জমজমাট নির্বাচনী মাঠ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:১৪, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী, ফতুল্লায় জমজমাট নির্বাচনী মাঠ

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা–আলীরটেক, গোগনগর) আসনে নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই উত্তাপ বাড়ছে। একাধিক পরিচিত ও প্রভাবশালী প্রার্থী মাঠে থাকায় এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। প্রতিদিনই গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মধ্য দিয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ।

এই আসনে বিএনপির জোট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বিএনপি আসনটি জোট শরিককে ছেড়ে দেওয়ায় খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নেমেছেন তিনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এখান থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন কাসেমী। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একটি অংশ তার পক্ষে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

কাসেমীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী। হাতি প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠে আছেন। ফতুল্লার রাজনীতিতে সুপরিচিত এই নেতা ১৯৯৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের কারণে তাকেও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী (বহিষ্কৃত) প্রার্থী মুহাম্মদ শাহ্ আলম। তিনি নিজস্ব ভোটব্যাংক ও জনপ্রিয়তার জোরে মাঠে বেশ সক্রিয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে নির্বাচন করে অল্প ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সারাহ্ বেগম কবরীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। ‘ক্লিনম্যান’ হিসেবে পরিচিত শাহ্ আলমের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এখনো ফতুল্লা জুড়ে বেশ ইতিবাচক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নির্বাচনের শুরুতে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীকে শক্ত অবস্থানে দেখা যাচ্ছিল। ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল জব্বার জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগে জামায়াত বিজয়ী হতে পারে—এমন ধারণাও তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে জামায়াত জোট সমর্থিত নতুন দল এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনকে সমর্থন দেন। যদিও ফতুল্লা এলাকায় আল আমিনের পরিচিতি তুলনামূলক কম এবং নতুন দল হওয়ায় তার নিজস্ব ভোটব্যাংক এখনো গড়ে ওঠেনি।

এ আসনে আরও একজন আলোচিত প্রার্থী হলেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। বিএনপির বিদ্রোহী (বহিষ্কৃত) প্রার্থী হিসেবে তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তবে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ায় ফতুল্লা এলাকায় তার প্রভাব ও আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম।

সব মিলিয়ে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর অংশগ্রহণে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচন এবার বেশ জমজমাট। শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।