বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

ভাদ্র ১৭ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

কোর্ট ও পিপি ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

স্টাফ করেসপনডেন্ট

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৮:৫৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোর্ট ও পিপি ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন, সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির

নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল একই আদালত প্রাঙ্গণে রাখার দাবি এবং নারী ও শিশু আদালতের নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে নতুন নিয়োগ পাওয়া পিপি অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আইনজীবী নেতাদের দাবি, আদালতের কাঠামো এবং পিপি নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে তারা সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করছেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে জেলার সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সিনিয়রদের মতামত ছাড়া বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নিলে আলোচনায় অপূর্ণতা থেকে যেতে পারে বলেই তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

দুটি কোর্ট একত্রিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের আদালত প্রাঙ্গণেই জেলা ও দায়রা আদালত এবং ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট রাখার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঁচজন সংসদ সদস্যের কাছে আইনজীবী সমিতির অবস্থান তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি তারা যেন ডিও লেটারের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানান, সেই আহ্বান জানানো হবে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালত প্রাঙ্গণের বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিলে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি নিয়োগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের একজন গুরুত্বপূর্ণ পিপিকে সরিয়ে নতুন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি আইনজীবী সমিতির ভোটার বা স্থায়ী সদস্য নন।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের একজন গুরুত্বপূর্ণ পিপি সরিয়ে একজন লোক, যিনি ২০২৪ সালে সদস্য হয়েছেন, তিনি ভোটারও না। তিনি আইনজীবী সমিতির কোনো বেনিফিশিয়ারি না। তাকে কে বা কার মাধ্যমে স্পেশাল পিপি করে দেওয়া হয়েছে আমরা সেটি জানতে চাই।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, তাদের আন্দোলনের দাবিগুলো পরিষ্কার। তারা দুটি কোর্ট একসঙ্গে চান। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, এমপিরা ফেইল করলে আমরা আন্দোলনে যাবো। এখানে যিনি পিপি হয়েছেন তিনি মেম্বারই না। দুই বছর হয়েছে তিনি সদস্য হয়েছেন। তাও তিনি স্থায়ী সদস্য না, তিনি ভোট দিতে পারবেন না। তাকে পিপি বানানোর একটি দুঃসাহসিক কাজ হয়েছে।

নতুন পিপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি তাকে অনুরোধ করবো, আপনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে কোর্টে আসুন। অন্যথায় আমরা যা করার তাই করবো।

এদিকে নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তিনি নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় আদালতে প্রবেশ করছেন না। পিপির অফিসে তালা দিয়ে রেখেছে আন্দোলনকারীরা। ফলে নিয়োগের বিষয়টি ঘিরে আদালতপাড়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।