ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আগামী নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন। রাজপথের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সমন্বয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে বিস্তর সমীকরণ। এ দৌড়ে মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ‘ক্লিন ইমেজ’-এর শক্তিতে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান। আসন্ন কমিটিতে তিনি সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদের অন্যতম প্রধান দাবিদার।
স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের মতে, আগামী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ত্যাগী, শিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। আর এই দিকগুলো বিচারে মো. হাসান অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন তার সমর্থক ও তৃণমূল কর্মীরা। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক রাজনীতি ও জাতীয় রাজপথে তার দীর্ঘ সক্রিয় উপস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়ার সন্তান মো. হাসান ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি পর্যায়ক্রমে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ পরিষদ গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং এর প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। এছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যায় দুস্থদের সহায়তা এবং ‘স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জ’ নামের একটি সামাজিক উদ্যোগকে সুসংগঠিত করার কাজে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
রাজনীতির মাঠে হাসানের এ পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে বহুবার হামলা, একাধিক মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের শিকার হতে হয়েছে এই তরুণ নেতাকে। রাজপথের ত্যাগের পাশাপাশি সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও রয়েছে তার বিশেষ অভিজ্ঞতা, ছাত্রদলের দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় নির্বাচনী প্রচারণা টিমের প্রধান হিসেবে তিনি সফলতার পরিচয় দেন।
নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্যের বিষয়ে মো. হাসান বলেন, “কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলেও নিজের জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জের মানুষের সেবা করতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখায় দায়িত্ব পালন করেছি, রাজপথে থেকে জেল-জুলুম ও মামলার মুখোমুখি হয়েছি। এসব ত্যাগ ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় যুবদলের শীর্ষ পদের জন্য আমি প্রত্যাশী। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের হাইকমান্ডের ওপরই নির্ভর করছে, দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই শিরোধার্য।”
মহানগর যুবদলের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের দৌড়ে একজন প্রতিশ্রুতিশীল ও গতিশীল নেতা হিসেবে মো. হাসানের নাম উঠে আসলেও, চূড়ান্তভাবে কাদের হাতে পদ তুলে দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত।

