ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় আলোচনায় এসেছে চারটি পোশাক কারখানার নাম। কারখানাগুলো হলো আবীর ফ্যাশন, মেট্রো নিটওয়্যার, মাইক্রো ফাইবার ও আজাদ নিট কম্পোজিট।
চারটি কারখানাই শিবু মার্কেট এলাকায় অবস্থিত। মঙ্গলবারের আন্দোলনে এসব কারখানার শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছিল বেশি। তাদের ঘিরেই বিক্ষোভের সূত্রপাত এবং পরে তা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
স্থানীয়দের দাবি, দুপুরের খাবারের বিরতির পর আবীর ফ্যাশনের শ্রমিকেরা কাজে না ফিরে কারখানার সামনে অবস্থান নেন। পরে কারখানাগুলোয় ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে নেমে আসে। এরপর আশপাশের অন্যান্য কারখানার শ্রমিকেরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। তবে ঠিক কী কারণে কারখানাগুলোতে একযোগে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শ্রমিকদের কাজে ফিরতে না চাওয়ার কারণেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে বলে যে বক্তব্য সামনে এসেছে, সেটি পুরোপুরি সঠিক নয় বলে দাবি স্থানীয় কয়েকজনের। দিনভর এসকল এলাকা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও দুপুরে হঠাৎ পরিস্থিতি পাল্টে যায় যা অস্বাভাবিক।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে অবরোধ শুরু করেন। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একপর্যায়ে জালকুড়ি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের সড়কে উঠতে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এর মাঝে অটোরিকশায় করে মাইক এনে মাইকে ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের উস্কানি দেয়া হয়।
বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জালকুড়ি এলাকায় সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও টিয়ারশেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা কয়েক দফা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন।
সংঘর্ষে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ছয় শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের শিল্প পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা সড়ক অবরোধ ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তারা সাধারণ শ্রমিক নয়। শ্রমিকের ছদ্মবেশে একটি মহল অশান্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক অসন্তোষে যারা উসকানি দিয়েছে, তাদের ভিডিও ও ছবি পুলিশের কাছে রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনায় জড়িতদের বিস্তারিত তথ্যও পুলিশের হাতে আছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিল্প পুলিশ সুপার বলেন, সাধারণ কোনো শ্রমিক পুলিশের কারণে আহত হোক, তা তারা চান না। শ্রমিকদের বিষয়ে সরকার আন্তরিক। তবে কোনো মহল সাধারণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

