ফাইল ছবি
মদনপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি যুবলীগ নেতা অহিদুজ্জামান অহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে বন্দর থানার মদনপুর ইউনিয়নের একটি ইটভাটা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, বন্দর থানার এসআই মনির, এএসআই মফিজ, এএসআই ইলিয়াস ও সঙ্গী ফোর্সের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি অভিযানে অহিদুজ্জামান অহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অহিদুজ্জামান অহিদ (৪৫) বন্দর থানার ফুলহর এলাকার মৃত হানিফের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মোট ৯টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ধামগড়, মুছাপুর ও মদনপুর ইউনিয়নসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা নিয়ে গঠিত বন্দরের উত্তরাঞ্চলের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ছিল যুবলীগ নেতা অহিদুজ্জামান অহিদের হাতে। ওই এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্য বজায় রাখতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৪ আগস্ট দুপুরে কেওঢালা ও মদনপুর এলাকায় অহিদুজ্জামান অহিদের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হন। এর মধ্যে দুইজন গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।
গুলিবিদ্ধদের একজন আল আমিন (১৭)। তিনি মদনপুর রিয়াজুল উলুম আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র। তার পিতা শাহ আলম গাজী চাঁনপুর হালিম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন।
আহত শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, ৪ আগস্ট সকাল ১০টা থেকেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর বাসস্ট্যান্ড ফুটওভার ব্রিজের নিচে অবস্থান নেয়। দুপুর ১২টার দিকে কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে একটি মিছিল নিয়ে কেওঢালা বেঙ্গল বিস্কুট ফ্যাক্টরির সামনে পৌঁছালে অহিদুজ্জামান অহিদের নেতৃত্বে কয়েকশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী মিছিলে হামলা চালায় এবং প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ে। এতে তিনি সহ আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হন এবং বহু মানুষ আহত হন। পরে আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
একই দিনে আন্দোলনকারীদের সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে অহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে মদনপুর এলাকার ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম ভুঁইয়া হীরন, বন্দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর নবী এবং মদনপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা দিপু ভুইয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান অহিদুজ্জামান অহিদ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অহিদুজ্জামান অহিদের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

