ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়ার দাবি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসীর অভিযোগ, শহরের এক নম্বর রেলগেট এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডের কারণে প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আপাতত বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তরের কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনে ধাপে ধাপে শহরের ভেতর থেকে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
শহরের এক নম্বর রেলগেট এলাকা নারায়ণগঞ্জের অন্যতম ব্যস্ততম অঞ্চল। এখানেই রয়েছে কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু সড়কের ওপর নির্ভর করে পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর। প্রতিদিন শত শত বাস বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করায় পুরো বঙ্গবন্ধু সড়ক এলাকাজুড়ে যানবাহনের চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে বাসের দীর্ঘ সারি, যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কের পাশে অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অভিযোগ, বাসস্ট্যান্ডের কারণে শুধু রেলগেট এলাকাই নয়, এর প্রভাব পড়ে বঙ্গবন্ধু সড়ক, চাষাঢ়া, নিতাইগঞ্জ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও। অনেক সময় অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির বলেন, বর্তমানে সরকার ঢাকার বাসস্ট্যান্ডগুলো স্থানান্তরের বিষয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে আশপাশের শহরগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। নারায়ণগঞ্জের বাসস্ট্যান্ড শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব কিনা, সে বিষয়ে আলোচনা করে একটি প্রস্তাব প্রস্তুতের চিন্তাভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নগরবাসীর স্বার্থ বিবেচনায় যা সবচেয়ে ভালো হবে, সেটিই করা হবে। তবে এই মুহূর্তে বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই।
এদিকে নগরবাসীর একটি বড় অংশ মনে করছেন, যানজট নিরসনে শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নয়, বাসস্ট্যান্ডের অবস্থান নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাদের মতে, শহরের কেন্দ্র থেকে বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে উপযুক্ত স্থানে আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ করা গেলে নগরবাসী অনেকটাই স্বস্তি পাবে।

