শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

|

আষাঢ় ৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সোনারগাঁয়ে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল গ্রেপ্তার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৮:০৭, ২০ জুন ২০২৬

সোনারগাঁয়ে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল গ্রেপ্তার

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ত্রাস সৃষ্টিকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনী 'বেলচা গ্রুপ'-এর প্রধান এবং পিরোজপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী আয়ান আহমেদ শাকিলকে গ্রেপ্তার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃত শাকিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ মিয়ার ছেলে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা জজ মিয়ার আপন ভাতিজা
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলচা গ্রুপের প্রধান শাকিল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি ও তার বাহিনী নিরীহ মানুষের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাত। তার নেতৃত্বে এলাকায় একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিটি মামলার এজাহার থেকে কৌশলে তার নাম বাদ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। মূলত তার চাচা জজ মিয়ার প্রত্যক্ষ শেল্টারে শাকিল এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। গত ৫ আগস্টের পূর্বে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শাকিল ও তার বাবা খোরশেদ মিয়ার নেতৃত্বে এক বিশাল সশস্ত্র মহড়া দেওয়া হয়, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল রয়েছে।
​এছাড়াও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বর্তমান সংসদ সদস্যকে 'মূর্খ মান্নান' এবং জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজিবকে চরম অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। 

সরকার পতনের পর নিজের অপরাধ ঢাকতে শাকিল অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'বিডি ক্লিন'-এর সোনারগাঁ শাখায় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে একটি পদ বাগিয়ে নেন তিনি। রাতারাতি 'সমাজসেবী' বনে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্যই ছিল বিডি ক্লিনের আড়াল ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের এলাকায় পুনর্বাসিত করা এবং নিজেদের পুরোনো অপরাধ আড়াল করা।

​শাকিলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সহিংসতার মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং রিমান্ডের আবেদনসহ তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

​এদিকে শাকিলের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পিরোজপুর ইউনিয়নসহ পুরো সোনারগাঁ এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই বেলচা গ্রুপের অত্যাচারে আমরা দীর্ঘদিন জিম্মি ছিলাম। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, কোনো রাজনৈতিক তদবিরে যেন এই খুনি ও সন্ত্রাসী পার পেয়ে না যায়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে দেশের প্রচলিত আইনের সর্বোচ্চ ধারায় তার যেন কঠিন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত করার সাহস না পায়।"