শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

|

আষাঢ় ৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

এনসিসির কদমরসুল কার্যালয়ে স্থবিরতা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২০:১৬, ২০ জুন ২০২৬

আপডেট: ২০:২০, ২০ জুন ২০২৬

এনসিসির কদমরসুল কার্যালয়ে স্থবিরতা

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বন্দরে কদমরসুল আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা বিরাজ করছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও   দক্ষ জনবলের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে সার্বিক কার্যক্রম। উপরন্তু অনিয়ম- দুর্নীতি ও প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘুস গ্রহণের প্রবনতায় ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। নিয়মিত  কর পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেনা নগরবাসী। এতে  ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কদমরসুল কার্যালয়ে বর্তমানে ফাইলে স্বাক্ষর করার মতো প্রয়োজনীয় পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা নেই। ফলে ছোট-বড় কাজের প্রতিটি ফাইল অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হয় শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের নগর ভবনে। সেখানে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার স্বাক্ষরের পর তা পুনরায় ফেরত আসে কদমরসুল কার্যালয়ে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য একটি ফাইলকে অন্তত ৪ থেকে ৫ বার শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে নগর ভবন ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের মধ্যে আসা-যাওয়া করতে হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, ঘুস দিলে এ সব ফাইলে দ্রুত স্বাক্ষর হয়। আর নয়তো ফাইল চালাচালি চলতে থাকে। ঘুস না দিলে  সাধারণ একটি কাজ সম্পন্ন হতে সময় লাগে ৬ মাস থেকে এক বছর।

২৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলীনূর মিয়া জানান,  নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য কর পরিশোধ করেও তার সুফল পাচ্ছেন না তারা ।  হোল্ডিংয়ের নাম পরিবতন, ওয়ারিশ সনদ বা ট্রেড লাইসেন্স সংশোধন করতে গেলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। ফাইল নাকি নগর ভবনে পড়ে আছে এই  অজুহাতে নাগরিকদের হয়রানি করা হয়। কদমরসুল আঞ্চলিক কার্যালয় পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত কারিগরি ও প্রশাসনিক জনবল নেই। বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক কার্যালয় করা হলেও দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তাকে পদায়ন না করায় সমস্ত কর্মকান্ড নগর ভবন কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৯ নং ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা জানান, তিনি হোল্ডিংয়ের নাম পরিবর্তনের জন্য ৭ মাস ধরে ঘুরছেন। কিন্তু  নাম পরিবর্তন করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ঘুস না দিলে নানা অপকৌশলে চাপিয়ে দেওয়া হয় অতিরিক্ত করের বোঝা।

২১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নূর হোসেন জানান, অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারী দ্রুত ফাইল ছাড়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ঘুস না দিলে নানা কারণ দেখিয়ে বাসিন্দাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে  অতিরিক্ত করের বোঝা।

এ সব অনিয়ম ও দূর্নীতি দূর করা না গেলে বিভিন্ন সেবামূলক কাজে জনসাধারণের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এ দিকে কাজের গতি ফেরাতে বন্দরের কদমরসুল কার্যালয়ে সপ্তাহে একদিন অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ  সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন  খান।